যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত মধ্যরাতের পর থেকে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯৭ জন। খবর আল জাজিরার।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবাননে ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের ‘অব্যাহত যুদ্ধবাজ নীতি’ গুরুতর ও তাৎক্ষণিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তার দেশে ইসরাইলের হামলাকে ‘একটি বিপজ্জনক ও নিন্দনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা ‘যুদ্ধবিরতি সুসংহত করতে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চলমান সমস্ত প্রচেষ্টাকে কার্যকরভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে’।
কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানে গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ‘লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা থাকলেও ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যা ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি হুমকির মুখে ফেলেছে।
লেবাননে সংঘাত তীব্র হওয়ায় আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা বাতিল করা হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া নিশ্চিত করার অত্যাবশ্যকীয় এই আলোচনার সময়সূচী নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিকল্পিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘আগামী দিনগুলোতে’ বৈঠকে বসতে পারে।
লেবাননে ইসরাইলি হামলা জোরদার
গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই তীব্রতর হয়। যা আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে। হামলা পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরাইলের সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানায়, লেবাননে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচ সেনা আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আইডিএফের দাবি, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের‘ জবাবে চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে চার সেনা নিহতের খবরে ইসরাইলের চরমপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, ‘পুরো লেবানন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিতে হবে’। সাম্প্রতিক একাধিক উস্কানিমূলক বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় বেন-গভির বলেন, তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে, ‘প্রতিটি ইসরাইলি মায়ের এক ফোঁটা চোখের জলের বিনিময়ে এক হাজার লেবানিজ মাকে কাঁদতে হবে’।
অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল মধ্যরাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলের তীব্র বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয়েছে হারুফ এলাকায়। সেখানে তিন নারীসহ ৯ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া আল-দুয়াইরে এক শিশু ও এক নারীসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। হাব্বুশ এলাকায় নিহত হয়েছেন ৭ জন। আরব সালিমে এক শিশুসহ ৩ জন এবং বালবেকের কাছে তাল আবিয়াদে আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন।
আল-শারকিয়াহ, কাফারসির, আল-কাত্রানি, নাবাতিয়েহ, দেইর আল-জাহরানি, কাফার রুম্মান, কাফার জৌজ, জেবশিত, কাকাইয়াত আল-জিসর, আদশিত, আল-রাইহান, আব্বা, আল-আব্বাসিয়া ও আইন বোরদাই এলাকাতেও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৯৮০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১ জন আহত হয়েছেন।






