মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও দেড়শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি কথোপকথন ধরা পড়েছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে আমন্ত্রিত অতিথি পুতিনের সঙ্গে শি'র ওই আলাপ একটি হট মাইকে ধরা পড়ে।
হট মাইক বলতে বোঝায়, যখন অপ্রত্যাশিতভাবে বা বক্তার অজ্ঞাতসারে কোনও কথা প্রচার করা হয়। এ ধরনের ঘটনা পুরোই অনাকাঙ্ক্ষিত বা আপাতদৃষ্টিতে অনিচ্ছাকৃত হতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনের বিজয় উদযাপনে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশটিতে আয়োজিত হয়েছে সামরিক কুচকাওয়াজ। এবার ৮০তম কুচকাওয়াজে ২৬টি দেশের নেতা চীনা প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। অতিথিদের মধ্যে পুতিন ছাড়াও ছিলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা শি জিনপিং।
কুচকাওয়াজের জন্য তিয়েনআনমেন স্কয়ারে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। মঞ্চের দিকে যাওয়ার সময় শি'র বক্তব্য অনুবাদ করে শোনান পুতিনের দোভাষী। তিনি বলেন, জৈবপ্রযুক্তি এত উন্নতি করেছে, এখন বারবার মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এভাবে যত দীর্ঘদিন বাঁচবেন, ততই যেন আপনার বয়স কমবে। তিনি আরও বলেন, এভাবে মানুষ হয়তো অমরত্বও পেয়ে যেতে পারে। অনেক বিজ্ঞানী তো মনে করেন, চলতি শতকেই মানুষ দেড়শত বছর বাঁচবে।
এই কথোপকথন চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ও সিজিটিএন, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স, মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিতে সরাসরি প্রচার করা হয়। চীনা বেতার মাধ্যম জানায়, ওই আলাপের ফুটেজ অনলাইনে প্রায় ১৯০ কোটিবার এবং টেলিভিশনে ৪০ কোটিবার দেখা হয়েছে।
দোভাষীর মাধ্যমে শি-পুতিন আলাপের সময় কিমকে হাসি হাসি মুখে তাদের মুখপানে চেয়ে থাকতে দেখা গেলেও তিনি কথার মাথামুণ্ডুর মর্মোদ্ধার করতে পেরেছেন কিনা বা তার জন্য আলাদা করে কেউ অনুবাদ করেছেন কিনা, ওই ফুটেজে তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি। এছাড়া, পুতিনের তরফ থেকে কোনও জবাব দেওয়া হয়েছে কিনা, সিসিটিভির ভিডিও ক্লিপে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওই ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রুশ সরকার, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিসিটিভির তরফ থেকে কোনও সাড়া দেওয়া হয়নি।
কুচকাওয়াজে সমবেত ৫০ হাজারের বেশি মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবজাতি আজ জটিল এক সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের সামনে বিকল্প রয়েছে যুদ্ধ বা শান্তি এবং আলোচনা বা সংঘাতের মধ্যে থেকে বাছাই করার। আমরা হয় সবাই জয়ী হতে পারি অথবা সবাইকে দমিয়ে একচ্ছত্র মালিক হতে পারি। তবে চীনারা ইতিহাসের সঠিক পক্ষে রয়েছে।
এবারের চীন সফরে পুতিন ও শি জ্বালানি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টির বেশি চুক্তি সই করেন এবং একটি নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে সম্মত হন। যদিও প্রকল্পের অর্থায়ন বা গ্যাসের দাম নিয়ে কোনও বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স




