জ্বালানি তেলের বাজারে বড় লাফ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বাড়ানোয় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও আবার সামনে এসেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৩৪ ডলার বা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ২১ ডলার বা ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৬২ ডলারে।
সপ্তাহান্তে তেহরান কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা আরও বাড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালায়। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এর আগে ইরান দাবি করেছিল, একটি জাহাজ অনুমোদিত পথের বাইরে প্রবেশ করে হামলার শিকার হওয়ার পর তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ছয়টি জাহাজ। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো।
শুক্রবার প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ওই চুক্তির পর জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে এটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।
এএনজেডের বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেন, সপ্তাহান্তের নতুন উত্তেজনা সাম্প্রতিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা অনেকটাই অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অন্যদিকে আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, তেলের দামে তুলনামূলক সীমিত বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজার এখনো মনে করছে, এটি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি মাত্র, পুরো যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি নয়। এই ধারণা কতটা সঠিক, তা সময়ই বলে দেবে।






