ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইউক্রেনে ইস্যুতে পুতিনের অনড় অবস্থানের নেপথ্যে

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম

ইউক্রেনে ইস্যুতে পুতিনের অনড় অবস্থানের নেপথ্যে

ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একবারও আপত্তি জানায়নি রাশিয়া। তবে সবকিছুই হতে হবে তাদের মর্জিমতো। হয় আমাদের শর্তে চলতে হবে, নইলে গায়ের জোরে শর্ত মানতে বাধ্য করা হবে- মোটাদাগে এই নীতিই অনুসরণ করছে মস্কো।

যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়াকে একঘরে করে ফেলার চেষ্টা দিন দিন যেন হাস্যস্পদে পরিণত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার হুমকি, পশ্চিমাদের সেনা পাঠানোর তোড়জোড়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্ফালন-সবকিছুকেই একরকম তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে নিজের অবস্থানে অটল আছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী সমর্থন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির বাস্তবতা।

ইউক্রেনে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য পশ্চিমাদের কথিত 'ইচ্ছুকদের জোট' দেশটিতে সেনা মোতায়েনের কথা বারবার উত্থাপন করেছে। প্রায় পুরো ইউরোপ তাদের বিরুদ্ধে থাকলেও হুঁশিয়ারি দিতে দ্বিধা করেননি পুতিন: পশ্চিমাদের সেনা বা শান্তিরক্ষী বাহিনী, ইউক্রেনে যা-ই পাঠানো হোক, তাদেরকে হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ভ্লাদিভস্তকে আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে ওই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তবে তার কথার চেয়ে প্রতিক্রিয়াটি ছিল বেশি চোখে পড়ার মতো। উপস্থিতরা যেভাবে করতালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন, সেটা দেখে কারও মনে হতেই পারে, তারা সবাই পশ্চিমা সেনা ধ্বংসের হুমকিতে স্বাগত জানাচ্ছেন।

শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়েও আজকাল আরও স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করছেন পুতিন। যে ভলোদিমির জেলেনস্কির নামই প্রকাশ্যে উচ্চারণ করতে চাইতেন না, সমঝোতার জন্য সেই একই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে সম্মত আছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে শর্ত থাকে যে, বৈঠকটি অবশ্যই হতে হবে 'বীর' নগরী মস্কোতে।

তার এই দাবিসহ অন্যান্য বিভিন্ন শর্ত প্রতিপক্ষ শিবিরে অগ্রহণযোগ্য হলেও, তার কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারছেন না, আর পুতিনের আচরণেও পরাজিত কোনও মানুষের ছাপ দেখা যায় না।

অবশ্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সাফল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কায়দা করে অগ্রাহ্য করার ধারাবাহিকতা যাচাই করলে পুতিনের আত্মবিশ্বাসের উৎস বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া কোনও অসুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্বাস করে না ক্রেমলিন। এছাড়া, চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরে পুতিন বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করলেন, চীন, ভারত এবং উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তি তার পাশে রয়েছে।

এছাড়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমাগত কৌশলে অগ্রাহ্য করে যাওয়া। ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টার দিলখোলা প্রশংসা করেছেন পুতিন। তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আলাস্কায় গিয়ে বৈঠকও করেছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা মেনে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেননি তিনি। অথচ যুক্তরাষ্ট্র তার হুমকি বাস্তবে পরিণত করেনি।

সব বিবেচনা করে ক্রেমলিন নিশ্চিত, তাদের কেশাগ্র স্পর্শ করার সামর্থ্য কারও নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে পুতিন বলেছেন, তিনি সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলোকচ্ছটা দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার মতপার্থক্যের মাত্রা দেখে মনে হয়, দুপক্ষ হয় ভিন্ন সুড়ঙ্গে আছে নইলে একই সুড়ঙ্গে উল্টো দিকে হাঁটছে।

ইউক্রেন ও তার মিত্রদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ করে কিয়েভের জন্য ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, রাশিয়া মুখ ফুটে না বললেও, তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইউক্রেনকে পরাজিত করা এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটা বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এরকম পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাঁটার কোনও লক্ষণ সহসা দেখা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন