ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইসরায়েলের রেড লাইন অতিক্রম, কি হচ্ছে!

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৬ পিএম

ইসরায়েলের রেড লাইন অতিক্রম, কি হচ্ছে!

কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এই হামলা আবারও প্রমাণ করলো যে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ইসরায়েলকে না থামালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এএফপি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়ছে। একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, হামাসের সিনিয়র নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল এই বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েল এই হামলার দায় নিতে কোনো লুকোচুরি করেনি। বিস্ফোরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে দায় স্বীকার করতে শুরু করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েল এটি শুরু করেছে, ইসরায়েল এটি চালিয়েছে এবং ইসরায়েল এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছে।”

এই হামলা ইসরায়েলের আগ্রাসী পদক্ষেপের একটি নতুন মাত্রা। এর আগে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সিরিয়ার কিছু অংশ দখল করেছিল, লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতাদের হত্যা করেছিল এবং গাজায় ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছিল।

তবে এবারের হামলা একটি নতুন সীমানা পেরিয়ে গেছে। কাতার হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কাতার গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তির জন্য আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি কাতারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র ইসরায়েল বিশ্লেষক মাইরাভ জোনসেইন আল জাজিরাকে বলেন, “আমরা দেখেছি ইসরায়েল জনবহুল এবং আবাসিক এলাকায় হামলা করে। যদি কেউ তাদের থামাতে গুরুতর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা এটা চালিয়ে যাবে।”

ফিলিস্তিনি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার বলেন, “আমি মনে করি না কাতারিরা আশা করেছিল যে ইসরায়েল দোহায় সরাসরি বোমা হামলা করবে।” তিনি এটিকে ‘প্রথাগত মোসাদ (ইসরায়েলি গোয়েন্দা) কাজ’-এর চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র (সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে) তেমন কোনো কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার বিষয়ে জানানো হয়েছিল, তবে ইসরায়েল এটি একতরফাভাবে চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে এই হামলা ইসরায়েলি বা আমেরিকান লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়নি, তবে হামাসকে আঘাত করা একটি “যথাযথ লক্ষ্য” ছিল।

আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, “আমি মনে করি না ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত ছাড়া এমন কোনো হামলা চালাবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি আমেরিকা সত্যিই সবুজ সংকেত না দিয়ে থাকে, তবে তাদের নিন্দা জানানো উচিত।”

ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, তবে তিনি হামাসকে সতর্কও করেছিলেন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, হামাসই এই আলোচনার প্রধান বাধা। তবে বাস্তবতা হলো, হামাস এর আগে কয়েকটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হলেও ইসরায়েল বারবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বা আলোচনার শর্ত পরিবর্তন করেছে।

ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং হামাসকে ধ্বংস করার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, আলোচনা যাই হোক না কেন।

জোনসেইন বলেন, “আমি মনে করি এর মূল কথা হলো, ইসরায়েল কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার বিষয়ে আগ্রহী নয়।”

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন