বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকা, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব। পাশাপাশি খাওয়ার অভ্যাসও অনেক ক্ষেত্রে ভালো থাকে না। আজকাল এসব সমস্যা শুধু বড়দের মধ্যেই নয়, বরং কমবয়সীদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত মাদকাসক্তিও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে আশার কথা হলো, এসব ঝুঁকি নিজ উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা যেসব অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো—
১. ধূমপান ত্যাগ করুন
ধূমপায়ীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ধূমপান না করা ব্যক্তির তুলনায় দ্বিগুণ। কারণ ধূমপান রক্তনালির অভ্যন্তরীণ প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে, রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং রক্ত ঘন করে দেয়। এতে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করে স্ট্রোক সৃষ্টি করে।
২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
যখন রক্তচাপ বেড়ে যায়, তখন রক্তনালির প্রাচীর দুর্বল হয়ে ফেটে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনাও থাকে। তাই ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। যদি রক্তচাপ বেশি হয়, তাহলে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি।
৩. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় দেড় থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়। কোলেস্টেরল কমানোর জন্য স্যাচুরেটেড ফ্যাট (যেমন চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, পনির) কম খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি।
৪. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
রক্তে অতিরিক্ত শর্করা রক্তনালিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, আঁশযুক্ত খাবার খান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মানসিক চাপ কমানোও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকির মধ্যে একটি। স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি। ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়, যা স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়।
৬. পর্যাপ্ত ঘুমান
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কম ঘুম রক্তচাপ বাড়িয়ে স্ট্রোকের কারণ হতে পারে, তবে অতিরিক্ত ঘুমও ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ব্যায়াম করে শরীরকে সক্রিয় রাখুন, যাতে ঘুমের মান ভালো হয়।
৭. শরীর সচল রাখুন
দীর্ঘসময় বসে থাকা ক্ষতিকর। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন একটু একটু করে ব্যায়াম এবং পেশি শক্তিশালী করার জন্য স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করা জরুরি।
শেষ কথা:
উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। তবে কিছু বিষয় যেমন বয়স, লিঙ্গ, বংশগত কারণ ও কিছু জন্মগত রোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। যেমন, নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেশি এবং গর্ভাবস্থা বা গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানও প্রভাব ফেলে—যাঁদের আয় ও শিক্ষার সুযোগ কম, তাঁদের ঝুঁকি বেশি থাকে।
এই কারণগুলো নিয়ে চিন্তা করাই ভালো নয়। বরং যা নিজের ক্ষমতার মধ্যে তা পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই স্ট্রোক প্রতিরোধের সেরা উপায়।





