রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ২৫ নভেম্বরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা লাঘবে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নির্দেশে বাহিনীটি জরুরি প্রতিক্রিয়া থেকে পুনরুদ্ধার—প্রতিটি ধাপে মানবিক সহায়তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান টিঅ্যান্ডটি মাঠে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ জনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আনসার ও ভিডিপির ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালক মো. আশরাফুল আলম। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
উপ-মহাপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, এই কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং মানবিক অঙ্গীকার। আনসার–ভিডিপি সবসময় জনগণের নিরাপত্তা ও সহায়তায় নিবেদিত, বিশেষ করে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায়। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আপনাদের স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফিরতে সহায়তা করবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ২৮ নভেম্বর মহাপরিচালকের নির্দেশে কড়াইল বস্তির ভেতরে একটি জরুরি মানবিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রটি ত্রাণ বিতরণ, তথ্য সহায়তা এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আনসার–ভিডিপি শুধু শীতবস্ত্র বিতরণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি। আজ পর্যন্ত টানা আট দিন ধরে দুই বেলা রান্না করা খাবার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৯ নভেম্বর ৫০০টি কম্বল বিতরণের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়া হয়।
দুর্যোগ ও সংকট মুহূর্তে জনগণের পাশে থাকার ধারাবাহিকতায় এই অগ্নিকাণ্ডেও দ্রুত, সমন্বিত ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আনসার–ভিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জরুরি মানবিক সহায়তা কেন্দ্রটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঢাকা মহানগর আনসারের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গনী। তার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা, নগর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সহায়তা ও আশ্বাস পেয়েছে।
বার্তাবাজার/এমএইচ





