ঢাকা   রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আরও চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা করছে ইসির

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৫ এএম

আরও চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা করছে ইসির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামিনে কারামুক্ত হওয়া সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আরও চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কাও করেছে সংস্থাটি। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ জরুরি বৈঠকে এমন আশঙ্কা করা হয়।

পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সেজন্য বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে অধিক সংখ্যায় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম সীমিত করা, বাইরে ঘুরে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা, অবৈধ অস্ত্রসহ হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার অংশ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি অনুসরণ করেন। এক পর্যায়ে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশার কাছে গিয়ে তার মাথায় গুলি করে অনুসরণকারীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে একটি বেসরকারি মেডিকেলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ওসমান হাদি। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে ইসি।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, চোরাগোপ্তা হামলার প্রবণতা থাকলেও আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। নির্বাচন সময়মতোই অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি শরিফ ওসমান হাদির ওপর চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা সবাইকে উদ্বিগ্ন করেছে। এ ঘটনা নিয়ে বিশেষ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই সখ্য গড়ে অত্যন্ত কাছে গিয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, অতীত অপরাধের রেকর্ডও আছে। আলোচনায় আরও জানা গেছে, ‘রেবেল হান্ট’ অপারেশন শুরুর পর যেসব সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ এরই মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে কী করণীয়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া, চোরাগোপ্তা হামলাটা কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ, নাকি এটা কোনো একটা আইসোলেটেড ইভেন্ট—তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদি বড় পরিকল্পনার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে বাহিনীগুলোর এই পরিকল্পনা পর্যায়ে কোনো কিছু করার অবকাশ ছিল কি না বা সে যে এখান থেকে ঘটনাটা ঘটিয়ে পালিয়ে গেল, সেখানে আমাদের কোনো ফেইলিউর আছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেন এই নির্বাচন কমিশনার।

ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, চোরাগোপ্তা হামলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সামনেও এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কা নেই—এমনটাও বলা যাচ্ছে না। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, যাতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং কঠোরভাবে দমন করা যায়।

তিনি বলেন, সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা এসেছে—যারা নির্বাচন বানচাল, প্রতিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তারা ব্যর্থ হবে। যেখানে যতটুকু দৃঢ়তা প্রয়োজন, বাহিনী ততটুকু দৃঢ় থাকবে। নির্বাচন কমিশনের বার্তা পরিষ্কার—নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই এবং নির্বাচন সময়মতোই হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, জামিনে বের হওয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হবে। ‘রেবেল হান্ট’ নামে যে অভিযানের প্রথম ধাপ আগে শুরু হয়েছিল, তার দ্বিতীয় ধাপ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। এটি সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে সাম্প্রতিক কিছু প্রবণতার সঙ্গে কোনো বৃহত্তর ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

যারা বন্ধু বা সহযোগী সেজে পাশে আসে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের সতর্কতা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, সহযোগীর ছদ্মবেশে নাশকতাকারীরা অনুপ্রবেশ করতে পারে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা যেন সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অপরিণত তথ্য প্রচার অনেক সময় সন্ত্রাসীদের উসকানি দেয় বা পালাতে সহায়তা করে—এগুলো রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেতন রয়েছে এবং কাজ করছে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত অনেক আসামি জামিন নিয়ে বাইরে আছে, তাদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এই কনসার্নটা এক্সপ্রেস করা হয়েছে যে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী অনেককেই এর আগে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তারা জামিন পেয়ে বাইরে এসেছে। বিশেষ করে যে ছেলেটাকে আমরা সন্দেহ করছি, সেও তো আইনি হেফাজতে ছিল এবং সে জামিন পেয়ে বের হয়ে এসেছে। সুতরাং আমাদের সামনেই একটা রেফারেন্স আছে। তাদের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এর আগে বৈঠকের শুরুতে হাদিকে গুলি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, এই ঘটনাটা আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার মাথার ওপর বাজ পড়েছে। আমি আগের দিন তপশিল ঘোষণা করলাম, আর পরের দিনই এমন একটি ঘটনা ঘটল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন