ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

প্রায় অর্ধকোটি জনতার অংশগ্রহণে জানাজা: অপ্রীতিকর ঘটনা নেই, বিদ্যমান ছিলো সম্প্রীতি ও শোক

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৭ এএম

প্রায় অর্ধকোটি জনতার অংশগ্রহণে জানাজা: অপ্রীতিকর ঘটনা নেই, বিদ্যমান ছিলো সম্প্রীতি ও শোক

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা ঘিরে রাজধানী ঢাকায় দেখা যায় এক অভূতপূর্ব জনসমাগম। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে লাখো মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে বিদায় জানিয়েছেন ‘আপসহীন নেত্রী’কে। সরকারি বার্তা সংস্থা ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশ থেকে আসা শোক ও বিদায় জানাতে আসা লোকসমাগমকে “মিলিয়নস অব পিপল” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে এই জানাজায় ঠিক কত মানুষ অংশ নিয়েছে সেটা ধারণা করা না গেলেও, অনেকের মতে এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজার আয়োজন।

ভোর থেকেই রাজধানীমুখী মানুষের জনস্রোত শুরু হয় মানিকমিয়া এভিনিউর উদ্দ্যেশে। গণমাধ্যম ও উপস্থিত জনতার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত তথা উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল, উপকূলীয় জেলাসহ প্রায় সব জায়গা থেকে ট্রেন, লঞ্চ, বাসে করে ঢাকায় ছুটে আসেন লক্ষ লক্ষ মানুষ “আপোষহীন নেত্রীর” জানাজায় অংশ নিতে।

জায়গা সঙ্কুলান না হবার ফলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ছাড়িয়ে জনতার কাতার যেতে শুরু করে বিজয় সরণি, আগারগাঁও, পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ, আসাদগেট, মিরপুর রোড, সোবহানবাগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, জাহাঙ্গীরগেট সহ আশেপাশের পুরো এলাকা জুড়ে। পথঘাট কানায় কানায় ভরে যায় নামাজে অংশ নিতে আসা মানুষের ঢলে। জায়গা না পেয়ে আশপাশের ভবনের ছাদ, ফ্লাইওভার, ফুটওভার ব্রিজেও অনেকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে শরিক হন জানাজার নামাজে।

রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ী থেকে প্রান্তিক শ্রেণির অনেক মানুষও কাজ ফেলে যোগ দেন ঐতিহাসিক এই জনসমাগমে। এতে স্পষ্ট হয়, খালেদা জিয়ার প্রতি দেশের মানুষের শ্রদ্ধা কেবল রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে নয়, ব্যক্তিগত টান ও সহমর্মিতার জায়গা থেকেও গড়ে উঠেছিল। মাঠজুড়ে পরিবেশ ছিল একদিকে শোকাবহ, অন্যদিকে শৃঙ্খলাপূর্ণ। অনেকের চোখে পানি, কারও হাতে কালো ব্যাজ; কেউ “আমাদের মা, আমাদের নেত্রী” লিখিত প্ল্যাকার্ড ধরে কাঁদছেন।

নামাজ শুরু হওয়ার আগে-পরের সময় কিছু জায়গায় দলীয় স্লোগান শোনা গেলেও মূল আয়োজনের সময়, পুরো এলাকা ছিল নীরব, কেবল কুরআন তিলাওয়াত, তাকবির আর কান্নার শব্দই ভেসে আসছিল। ইমামের শেষ তাকবির ঘোষনার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষ একসঙ্গে হাত উঠিয়ে দোয়া করেছেন, কান্নায় বেদনায় মূর্ছা গিয়েছেন অগণিত মানুষ। এই দৃশ্যকে অনেক গণমাধ্যম “জাতীয় শোকের সমবেত মুহূর্ত” বলেও বর্ণনা করেছে। সব মিলিয়ে আজকের উপস্থিতি, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি দেশের জনতার এক বিরল স্বীকৃতি হিসেবে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন