বাংলাদেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা মানুষকে শুধু ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে শিখিয়েছে এবং ‘না’ বলার জায়গা তৈরি করেনি। তার মতে, একটি কার্যকর গভর্ন্যান্স কাঠামোতে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ উভয় ধরনের মতামতের জন্যই সমান জায়গা থাকা জরুরি।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ক্ষমতায়ন: নেতৃত্ব, ঐক্য এবং প্রবৃদ্ধির পথ’ শীর্ষক সেমিনারে শনিবার দুপুরে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি তরুণদের ভূমিকাকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের এতদিনের শাসনব্যবস্থা শুধু ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর পাঠ দিয়েছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে এমন এক কাঠামোর, যেখানে মতভিন্নতা থাকবে, তরুণদের বক্তব্য শুনবে শাসকরা।”
তিনি জানান, এখন দেশের যুবসমাজ বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে প্রজন্মগত ব্যবধানও আছে, যা দূর করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
৫ আগস্ট তরুণদের রাস্তায় নামাকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “আজকের তরুণেরা মোহভঙ্গের জায়গা থেকে বাস্তবিক চিন্তা করছে। তারা জানে তারা কী চায়, তাদের বক্তব্য পরিষ্কার এবং তাৎপর্যপূর্ণ।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গভর্ন্যান্স নিয়ে বলেন, “শাসনব্যবস্থা কি কেবল একজন সচিবের স্বাক্ষরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সাধারণ মানুষের মতামতও এর অংশ হবে? আমরা যা বলি, সেটাই শাসকেরা মানবে—এই বোধ তৈরি করতেই হবে।”
সেমিনারের আরেক আলোচক অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের মানসিক কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “এই পরিবর্তন মানসিকতায় আত্মবিশ্বাস এসেছে যে পুরোনো ধাঁচে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। এখন দরকার কার্যকর গভর্ন্যান্স, কৃষির অগ্রগতি এবং প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন।”
আলোচনায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আমরা তরুণদের সেই স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন শুনতে পাই না।”
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুর রব খান। অংশগ্রহণ করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা, যার মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ভারতের অনিন্দিতা ঘোষাল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া পারমাণবিক বিজ্ঞানী হারুনুজ্জামান।





