ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি বৃদ্ধি পাচ্ছে সাধারণ জনগণের আস্থা

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১ এএম

সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি বৃদ্ধি পাচ্ছে সাধারণ জনগণের আস্থা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১ মাস ৭ দিন। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছিল। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে এ নির্বাচন কমিশন (ইসি) কতটা সক্ষম তা নিয়ে সবার মনে ছিল সন্দেহ ও সংশয়। কারণ গত ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে তাতে ইসির প্রতি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের অস্থা হারিয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছায়, তাদের কথা মতো সব করেছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে। মানুষ তাদের ভোট দিতে পারেনি। এসব কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি কারো কোন আস্থা ছিল না। বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সেই ১৯৯১ সালের নির্বাচন ছিল এদেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভাল নির্বাচন। এর পর একটি আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি পদত্যাগ করলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকা- বিতর্কিত হতে শুরু করে। বলা যায় যে, ২০০৮ সাল থেকে নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি আজ্ঞাবহ কমিশনে পরিণত হয়।

২০২৪ সালে ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে তার প্রতি জনগণের প্রত্যাশা আকাশ ছোঁয়া। এ সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা পথ সুগম করবে এমনটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। আর সে প্রত্যাশাপূরণে সরকার ইতোমধ্যে তাদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট। এই গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আরও কিছুটা বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ইসি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কতটা সক্ষম সে প্রশ্ন এখন অনেকের মনে। এ বিষয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনও বেশ সজাগ। তারা জানে নির্বাচন কমিশনের প্রতি সবার আস্থা ফিরিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, গত দেড় দশকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি মানুষের আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এই আস্থা পুনরুদ্ধার করাকেই বর্তমান কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে তাদের কর্ম-তৎপরতা শুরু করেছে। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশন যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সব দল ও প্রার্থীকে পোস্টার-ব্যানারসহ যাবতীয় প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাদের সে নির্দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কার্যকর হয়েছে। এরপর আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতাও বেশ বেড়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলছে নিয়মিত অভিযান। এরপর প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিলের পর চলছে যাচাই-বাছাই। এ ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন বেশ নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে গত দুই দিনের বাছাই কার্যক্রমে নানান ভুল ও অসঙ্গতির কারণে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল ও স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই গতকাল পর্যন্ত ৮৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে ইসি। হলফনামায় ভুল ও তথ্যে গরমিল, দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা ও ঋণখেলাপির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে ডাকসুর সাবেক ভিপি আলোচিত রাজনীতিবিদ নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল মালিক, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা আলোচিত নেত্রী তাসনিম জারা, ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা মাহবুবুল আলম ছালেহী প্রমুখ উল্লেখ যোগ্য। এসব প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র যে সব কারণে স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে সে সব কারণ অতীতের নির্বাচন কমিশনগুলো উপেক্ষা করে গেছে। এবার কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক শিবির নেতা মাহবুবুল আলম সালেহী এবং সিলেট-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মালিকের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে। অথচ বিগত সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন করেছে এবং মন্ত্রী হওয়ার নজিরও রয়েছে। শুধু দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু নয়, ঋণ খেলাপি, ভুল তথ্য দেয়া এসব ইস্যুতে এবার নির্বাচন কমিশন যে ভাবে দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিচ্ছে তাতে মানুষের মনে তাদের প্রতি আস্থা ফিরে আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুরো জাতি তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে অর্থাৎ তফসিল ঘোষণার পর থেকে তাদের যে দায়িত্বশীল কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে জনমনে এ কমিশনের আস্থা ফিরে আসছে। পোস্টার-ব্যানার নির্ধারিত সময়ে সরানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতে দেখছি। এটা নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। এভাবে প্রতিটি ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে তাহলে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। দেশের মানুষ নির্বাচন কমিশনের কাছে এমন দায়িত্বশীলতাই প্রত্যাশা করে।

গণ-সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। কেননা তাদের আর কোন বিকল্প নেই। তাদের প্রতি আমাদের আস্থাশীল হতে হবে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী নির্বাচনের উপর দেশের আগামীর পথ চলা নির্ভর করছে। নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে এমনটাই আশা করি। এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম জাতিকে আশান্বিত করছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে। আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই আশা করি সবার আস্থা ফিরে আসবে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনের প্রতি সবার আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন