নির্বাচনের কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সার্বিক কার্যপ্রস্তুতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, সুইডেন দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি, হিউম্যান রাইটস ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জেন্ডার ইকুয়ালিটির একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ঢাকাস্থ সুইডিশ রাষ্ট্রদূত এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি আমাদের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের পার্টি রেজিস্ট্রেশন, আপিল, পোস্টাল ভোটের টেকনিকাল ব্যাপার সমূহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপতথ্য রোধ-এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কিভাবে কাজ করছি তা জানতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘মিস-ইনফরমেশন’ (ভুল তথ্য) এবং ‘ডিস-ইনফরমেশন’ (অপপ্রচার) ইসি কীভাবে হ্যান্ডেল করছে, সে বিষয়ে তারা গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। নির্বাচনে তাদের কোনো সহযোগিতা লাগবে কিনা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছেন রাষ্ট্রদূত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, নির্বাচনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, তা তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে এই সমস্ত বিষয়ে বিশদভাবে জানার পর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়াও গত কয়েকদিনের বিএনপির অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি দলকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল দলগুলোর প্রধানের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো আইনবিরোধী এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকা- অব্যাহত থাকলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাখিল করা বিএনপির অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে নির্বাচনি প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও উল্লিখিত চারটি দল প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যা নির্বাচনি পরিবেশে অসমতা সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকা- নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থি। চিঠিতে বলা হয়, সতর্কবার্তার পরও যদি কোনো দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা থাকবে।





