চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনের ঢেউ এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে দেশের জ্বালানি খাতে। বন্দরের অস্থিরতার কারণে জাহাজ থেকে তেল খালাস ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় সারাদেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরণের সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ডিপোতে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ডিলারদের, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
ডিপোতে দীর্ঘ লাইন, মিলছে না তেল
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেল ডিলাররা অভিযোগ করছেন, ডিপোগুলোতে তেল সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে ধীরগতিতে চলছে। বিশেষ করে ডিজেলের গাড়িতে তেল ভরতে সারাদিন কেটে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল এলাকার মেঘনা ডিপোর চিত্র তুলে ধরে এক জ্বালানি তেল ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। আমার গাড়ি ভোরবেলা ডিপোতে ঢুকেছে, কিন্তু তেল নিয়ে বের হতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।” কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডিপো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম থেকে সময়মতো ডিজেলের জাহাজ এসে পৌঁছায়নি, তাই মজুদ কমে গেছে। এখন জাহাজ আসার পর ধীরে ধীরে খালাস করে গাড়ি লোড দেওয়া হচ্ছে।”
বিপিসি কী বলছে?
সংকটের বিষয়টি স্বীকার করলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান রেডিও বার্তাকে বলেন, “সামান্য সমস্যাকে অনেক সময় বড় করে দেখা হয়। এটা সত্য যে চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের কারণে তেল খালাসে কিছুটা দেরি হয়েছে এবং সাময়িক একটা গ্যাপ তৈরি হচ্ছিল। তবে আমরা সেটা সামাল দিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, সংকট এড়াতে সমুদ্র থেকে ছোট লাইটার জাহাজে করে তেল খালাস শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রপথে আরও তেলের জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে, তাই বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
ঝুঁকিতে ডিজেল সরবরাহ
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। সাধারণত বিদেশ থেকে আসা তেলের জাহাজগুলোর একটি নির্দিষ্ট শিডিউল থাকে। আমদানির এই শিডিউলে সামান্য হেরফের হলেই সারাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্দরের অচলাবস্থা সেই শিডিউলে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






