গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজসংস্কারক, জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের অগ্রপথিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া ও স্মরণ সভার আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ সভায় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য তিনি অস্থায়ী হাসপাতাল গড়ে তোলেন। তিনি এরশাদ সরকারের আমলে জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণতন্ত্রকামী মানুষের লড়াইয়ের সাথে ছিলেন। তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি গণঅধিকার পরিষদের
মাজার ভাঙচুর-হত্যার ঘটনায় এনসিপির বিবৃতি
হানিফ বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভূমিকা আজকে আমরা ভুলে গেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্মরণে রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজন ছিল না। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা করতে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি গণঅধিকার পরিষদের
ডা. কামরুলকে চাঁদাবাজদের হয়রানি, যা বললেন জামায়াত আমির
তিনি আরও বলেন, বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধেও জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন। এখন বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অথচ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজন নাই, এটা দুঃখজনক। আমরা গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি জানাই আগামীতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়।
দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন একজন নির্ভীক দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক এবং গণমানুষের চিকিৎসাসেবার পথপ্রদর্শক। তিনি আজীবন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে লড়াই করেছেন। তার আদর্শ ও সংগ্রাম আমাদের পথ দেখাবে। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
দোয়া ও স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য হাবিবুর রিজু। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন নুর ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আব্দুর রহমানসহ অনেকে।






