ঢাকা   সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

গত ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সেটা এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী রাজিব

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ এএম

গত ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সেটা এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী রাজিব

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেছেন, ‘কয়েকদিন ধরে বিরোধীদলের সদস্যদের মধ্যে খুব অস্থিরতা লক্ষ্য করছি। আমি খোঁজার চেষ্টা করেছি কী কারণে এ অস্থিরতা। আমি একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছি। গত ১৮ মাস (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়) যে আরামে ছিলেন, সেই আরাম এখন হচ্ছে না। এ কারণে অনেক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’

আজ রবিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

তিনি বলেন, ‘অস্থিরতার কারণটি হলো, ওয়ান ইলেভেনে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল সেই সরকারটি সম্পর্কে সবাই জানেন।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধয়ক সরকার বলা হতো। আর গত ১৮ মাস যে সরকারটি ছিল, সেই সরকারটি কিন্তু আজকের যারা বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ আছে, সেই জামায়াতে ইসলাম এবং এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে সবাই অভিহিত করেছে।’ এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন। সেই আরাম এখন হচ্ছে না। এই কারণে অনেক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। আমি প্রমাণ দিয়ে দেখাতে পারব, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন নেতা, তাঁর বক্তব্য আছে, সে একজনের সাথে গল্প করছে, বলছে যেইভাবে আমরা কাটিয়েছি। মন চেয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বাসায় ঢুকে গিয়েছি, মন চেয়েছে তাঁর বেডরুমে ঢুকে গিয়েছি, মন চেয়েছে সচিবের রুমে ঢুকে গিয়েছি। এখন তো আর সে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্যাটা মাননীয় স্পিকার এ জন্যই।”

রাজিব আহসান বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে অন্ততপক্ষে তিনজন সংসদ সদস্য শহীদের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন বলেছেন। একজন বলেছেন ৮৪৪ জন, একজন বলেছেন এক হাজারের বেশি, আরেকজন বলেছেন ১৪০০ শহীদ হয়েছেন। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বলেছিল ১৪০০ অধিক শহীদ হয়েছে এবং এটা জাতিসংঘও বলার চেষ্টা করেছে। পরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গেজেটে ৮৪৪ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সমস্যাটা কোন জায়গাটায়? আমি একটি কথা আপনাদের বলতে চাই, একটি উদ্ধৃতি দিয়েই বলতে চাই। মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আমি ওনাকে খুবই পছন্দ করি, খুব সুন্দর কথা বলেন, আদবের সাথে কথা বলেন। গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি অনুষ্ঠানে উনি বলেছেন, ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, সরকারি গেজেট ৮৪৪ জনের। উনি ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ বাসায় কীভাবে গেলেন? এটাতো আমি বুঝতে পারতেছি না। উনি যদি যেয়ে থাকেন কোন আপত্তি নাই, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমরা প্রকৃত সংখ্যাটা জানতে চাই।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছে। এক বছর, দুই বছর হয় নাই। এখনই স্মৃতির বিস্মৃতিতে অনেক কিছু হারিয়ে যদি যায়, ১০ বছর ২০ বছর পরে এই ইতিহাস বিকৃতি কোথায় গিয়ে পৌঁছবে? মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে যে ধরনের একটি ব্যবসা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যে ব্যবসা আমরা দেখেছি গত ৫৪ বছর, আমরা চাই না এই জুলাইকে কেন্দ্র করে নতুন করে ব্যবসা শুরু হবে।

রাজিব আহসান বলেন, আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। সরকার ভুল করলে বলবেন, সমালোচনা করবেন, কার্টুন করবেন। সেটা নিয়মের মধ্যে করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এটাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলবেন, আমরাও শুনতে চাই, আমরাও কাজ করতে চাই আপনাদের সাথে। কিন্তু যারা কুৎসা রটনা করেছেন, আমরা দেখলাম আপনারা তাদের পুরস্কৃত করেছেন। যিনি অশ্লীল মন্তব্য করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যকে আপনারা সংসদ সদস্য করে কি প্রমাণ করতে চান?’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!