গণভোটের ফলাফলকে শপথের আওতায় এনে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যদি কোনো কারণে গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তবে বর্তমান সংসদ সদস্যদের পদও বাতিলের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একই অর্ডারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলো, আবার গণভোটও হলো। আমরা সংসদ সদস্যের শপথ নিলাম, কিন্তু গণভোটের শপথ নিলাম না। বর্তমান আইনজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন যে, যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সংসদ সদস্য পদও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে। শেষ পর্যন্ত আমও যাবে, ছালাও যাবে মাননীয় স্পিকার।’
গণভোট নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটকে শপথ দিয়ে এটাকে কার্যকরী করতে হবে। তা না হলে এই দ্বন্দ্বের সমাধান হবে বলে মনে হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি অক্ষরে অক্ষরে এটি পালন করবেন। তাহলে শপথটা নিতে অসুবিধা কোথায়? আমরা তো বুঝি না। তাই শপথ নিয়েই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।’
বক্তব্যের অন্যান্য অংশে তিনি বাংলাদেশে কোরআনের আইন চালুর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে কোরআনের বিধান চালু হওয়া উচিত। যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে, তাদের দায়িত্ব নামাজ ও যাকাত চালু করা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অতীতে কোনো সরকারই সংসদে কোরআনের একটি আইনও চালু করেনি।’
শিক্ষকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মানুষ গড়ার কারিগররা বেতন-ভাতার জন্য রাজপথে মশার কামড় খেয়ে আন্দোলন করবে, এটা হতে পারে না। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলেই এই সমস্যার সমাধান হয়।’ এছাড়া দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্স ও চালক নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া বড় বড় আলেমদের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান মুজিবুর রহমান। এ ধরনের অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






