ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১১:০৩ এএম

বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি সংস্থাগুলো। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনও দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়বে। প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রস্তাব নিয়ে ২০ ও ২১শে মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বর্তমানে দেশে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। যদিও ব্যবহার ও গ্রাহক শ্রেণিভেদে এই দামে পার্থক্য রয়েছে দেশে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নিম্নআয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য মূল্য অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসি’র সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার বলেন, নিয়ম অনুয়াযী সংস্থাগুলো তাদের প্রস্তাব দিচ্ছে। অধিকাংশ সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছেন বলে জানান এই সদস্য।

সূত্রমতে, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতির লোকসান কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিইআরসি বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে পিডিবি। সংস্থাটির ওই আবেদনে বিদ্যুতের দাম কমপক্ষে ১৭ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পিডিবি প্রস্তাবে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি পিডিবি’র প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবগুলো বর্তমানে প্রযুক্তিগত কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে আগামী ঈদুল আজহার আগে দাম বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিইআরসি’র চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা হয়। তাই পাইকারি দামের প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি করা হয়েছে। তবে নিম্নআয়ের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত রয়েছে। ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক যারা মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাদের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যাতে তাদের ওপর সরাসরি চাপ না পড়ে।

কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সব প্রস্তাব প্রথমে কারিগরি কমিটি মূল্যায়ন করবে। এরপর অংশীজনদের অংশগ্রহণে গণশুনানির আয়োজন হবে। শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বিইআরসি। বিদ্যুৎ খাতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি এবং সরকারের ভর্তুকি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এই সময় খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ দশমিক শূন্য ৪ টাকা হয়েছিল।

বর্তমানে পিডিবি’র আবেদনে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দাম বাড়ানো হলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়বে। গত ৯ই এপ্রিল বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে দাম বৃদ্ধির সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

পিডিবি’র প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কমবে। পাশাপাশি ১ টাকা বাড়ালে ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ভর্তুকি কমতে পারে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

বর্তমানে পিডিবি সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তিভিত্তিক দামে বিদ্যুৎ কিনে তা নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান থাকায় ঘাটতি পূরণে সরকার থেকে ভর্তুকি নিতে হয় সংস্থাটিকে। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে মুনাফা করছে।

পিডিবি বলছে, দেশে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৩৭ শতাংশ ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিল বাড়বে। কেননা দেশের বাকি ৬৩ শতাংশ ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক, যারা ৭৫ ইউনিটের কম ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে বেশি বিদ্যুৎ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি দাম আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে জ্বালানি খাত অস্থির। জ্বালানির দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খরচ বেড়ে গেছে। ঘাটতি সামলাতে গত ১৮ই এপ্রিল নির্বাহী আদেশে বাড়ানো হয় জ্বালানি তেলের দাম। এর আগে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের জন্য গত ৯ই এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। দেড় দশকে পাইকারিতে ১২ বার ও গ্রাহক পর্যায়ে ১৪ বার দাম বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার এসে দাম না বাড়িয়ে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এ ব্যাপারে বলেন, ঘাটতি দেখিয়ে দাম বাড়ানোর অজুহাত পুরনো। মূল্যবৃদ্ধি কোনো সমাধান নয়। দাম বাড়ালে মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে। এমনিতেই মানুষ খুব কষ্টে আছেন। খরচ কমিয়ে ভর্তুকি কমানো যেতে পারে বলে পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!