জনগণের সমস্যা, অসঙ্গতি ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ মাধ্যমেই জনগণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হয়।’
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনের ট্রপিকানা টাওয়ারে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার ওপর ‘স্টিম রোলার’ চালানো হয়েছিল। সরকার ও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ধ্বংস করে একটি ‘ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী সরকার’ টিকিয়ে রাখতে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে মুক্ত হয়েছি।’
ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা চাই এবং জনগণও প্রত্যাশা করে, আগামী দিনে আপনারা নিরপেক্ষ ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের অসঙ্গতি ও জনগণের সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন, যাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা সেসব সমস্যার নিরসন করতে পারেন।
সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে রাষ্ট্রে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স তৈরি করা সম্ভব। একইসঙ্গে জনগণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের মধ্যে একটি সংযুক্তি গড়ে ওঠে। এই সংবাদমাধ্যমের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের বার্তা আদান-প্রদান করতে পারি। জনগণের কথা আমরা শুনতে পাই, রাজনীতিবিদদের কথাও জনগণ শুনতে পায়। তাই এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যে কোনো স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক দেশে মুক্ত গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আপনারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবেন এবং যারা সত্য প্রকাশ করবেন, তাদের ওপর যেন কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা না হয়, সেই বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই করে এসেছি। যখনই কোনো গণমাধ্যম বা সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি, মানববন্ধন করেছি—যখন কোনো স্পেস ছিল না।
বক্তব্যের শুরুতে ইশরাক হোসেন ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও অঙ্গহানির শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।






