পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর মানুষ যখন প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বাড়িমুখো, তখন সেই যাত্রার প্রস্তুতি পরিদর্শনে বুধবার (৪ জুন) কমলাপুর রেলস্টেশনে হাজির হন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। স্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, টিকিটসহ নানা বিষয় নিয়ে খোঁজখবরও নেন তিনি।
এ সময় ঘটে এক হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্ত।
রেলস্টেশনে নামার পরপরই একটি পথশিশু—পরিচয়ে রামিন—উপদেষ্টাকে এগিয়ে এসে সালাম করে। কিশোরটির আচরণে খুশি হয়ে উপদেষ্টা তার দিকে ফিরে আসেন এবং স্নেহ প্রকাশ করেন। রামিন তখন পা ছুঁয়ে সালাম করার চেষ্টা করে, কিন্তু উপদেষ্টা তাতে বাধা দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন।
ঘটনার এই মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং হাজারো মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা শিশুটিকে কিছু টাকা দিতে চাইলে রামিন তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে শুধু একটাই কথা বলতে থাকে, “স্যার, টাকা লাগব না। না না, টাকা লাগব না।”
তার এমন সরলতা ও আত্মসম্মানের বার্তা দেখে উপস্থিত অনেকেই অবাক হন। উপদেষ্টা পরে তাকে আবার ডাকেন এবং স্নেহের সঙ্গে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন।
পরে সাংবাদিকরা রামিনের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, “স্যার গাড়ি থেইকা নেমে আমারে ধরছে, এইটাই অনেক ভালো লাগছে।”
তবে টাকা না নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে বলেছে, “টাকা নিলে লোকে খারাপ বলবে। এই টাকা দিয়া দুইদিন খাইতে পারুম, তারপরে তো শেষ। আমার টাকা লাগব না, স্যারের দোয়া থাকলেই হইব।”
নিজেকে নেত্রকোনার জাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয় রামিন।
এই পথশিশুর এমন আচরণ শুধু একটি মানবিক গল্প নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা — আত্মসম্মান আর নৈতিকতা এখনো বেঁচে আছে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুদের মধ্যেও।





