ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

গভীর রাতে দেশে ফিরেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৫, ০৮:৫৭ এএম

গভীর রাতে দেশে ফিরেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন। রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩৩৯ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা, নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আবদুল হামিদ প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ যাত্রীর মতো দেশে ফিরেছেন।”

জানা গেছে, বিমান থেকে নামানোর সময় তাকে হুইলচেয়ারে করে নামানো হয়। বিধ্বস্ত চেহারায় দেখা যায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে। তার মুখে মাস্ক ও পরনে ছিল শার্ট ও লুঙ্গি। সঙ্গে ছিলেন তার ছোট ছেলে রিয়াদ আহমেদ এবং শ্যালক ডা. নৌশাদ খান।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন আবদুল হামিদ। এরপর রাত প্রায় পৌনে ৩টার দিকে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক পটভূমি ও বিতর্ক

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অনেক শীর্ষ নেতাকর্মী বিদেশে পাড়ি জমালেও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশেই ছিলেন। এরপর ৯ মাস পর, ২০২৫ সালের ৮ মে গভীর রাতে চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি।

তবে তার এই দেশত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। কারণ, তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছিল কিশোরগঞ্জ সদর থানায়, ১৪ জানুয়ারি। মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ওবায়দুল কাদেরের নামও উল্লেখ করা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিদেশ যাত্রার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহসিনা আরিফ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আজহারুল ইসলাম এবং এসবির এটিএসআই মো. সোলায়মানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ

চলমান গণআন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একইসঙ্গে দলটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদের অবদান

আবদুল হামিদ ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি এবং পরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি পদে তার স্থলাভিষিক্ত হন মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন