ঢাকা   সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সঞ্চয়পত্র ইস্যুতে বড় সুখবর, এবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম

সঞ্চয়পত্র ইস্যুতে বড় সুখবর, এবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

সঞ্চয়পত্র ইস্যুতে বড় সুখবর, এবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মাসে অনুষ্ঠিত অর্থ বিভাগের নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিডিএমসি) সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হতে পারে।

রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় প্রতি বছরই স্থানীয় ও বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নেয় সরকার। স্থানীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের বড় একটি অংশ আসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিলের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সরকারের সুদ ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। এ অবস্থায় ব্যয় কমাতে শরিয়াহভিত্তিক ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে সরকার।

চলতি অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ইসলামিক ট্রেজারি বিল ইস্যু করতে চাইছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের সিডিএমসি কমিটির মূল কাজ সরকারের রাজস্ব আহরণ, ব্যয়, বাজেট ঘাটতি এবং দেশি-বিদেশি ঋণের মধ্যে সমন্বয় করা। গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এ কমিটির সভায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ইসলামিক ট্রেজারি বিল ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

এর ধারাবাহিকতায় এবার শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যু করতে চায় অর্থ বিভাগ। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে মুনাফার হার নির্ধারণের পর শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হবে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নেয়া সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকায়।

এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নেয়া সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪ কোটি টাকায়।

বিশ্বের অনেক দেশে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক পণ্যের বড় বাজার গড়ে উঠলেও বাংলাদেশে এটি এখনো সেভাবে বিস্তৃত হয়নি। দেশে শরিয়াহভিত্তিক মূল আর্থিক পণ্য ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত আমানত। এর বাইরে এখন পর্যন্ত ছয়টি সুকুক বাজারে এসেছে এবং প্রতিটির ক্ষেত্রেই পাঁচ-ছয় গুণ ওভার সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। একটি সুকুক ইস্যুর পর আরেকটি সুকুক ইস্যুর জন্য এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। কারণ এক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত সম্পদ পাওয়া যায় না। এ সময়ে যারা শরিয়াহভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ করতে চান, তারা সেটি করার সুযোগ পান না এবং সরকারও সে সুযোগ তাদের করে দিতে পারে না।

গত মাসে গ্রামীণ রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের জন্য ইসলামী বন্ড সুকুকের বিপরীতে ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। শরিয়াহভিত্তিক এ বন্ড কেনার জন্য পূর্বনির্ধারিত নিলামে মোট ৭২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে, চাহিদার তুলনায় যা ১২ দশমিক ৩০ গুণ। প্রথমবারের মতো সুকুকের এ নিলাম হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সফটওয়্যার শরিয়াহ সিকিউরিটিজ মডেল (এসএসএম) ব্যবহার করে। সাত বছর মেয়াদি ভাড়াভিত্তিক সুকুকে গ্রাহক বার্ষিক ভাড়া বা মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামিক শাখা বা উইন্ডো এবং ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রভিডেন্ট ফান্ড এখানে আবেদন করে। নিলামে ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে আবেদন অনেক বেশি হওয়ায় আনুপাতিক হারে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক পণ্যের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক পণ্য না থাকায় অনেকেই তাদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সুকুকে কয়েক গুণ বেশি আবেদন পড়তে দেখা গেছে। এ অবস্থায় যারা শরিয়াহভিত্তিক পণ্যে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য সঞ্চয়পত্র ইস্যু করতে চায় সরকার। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী বছরের শুরুতেই শরিয়াহভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!