জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে — সংসদে ১০০ আসনের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এই উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (প্রতিনিধিত্বের হার, পিআর পদ্ধতি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে।
উচ্চকক্ষ গঠনের পরিকাঠামো ও ক্ষমতা
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী,
- উচ্চকক্ষের নিজস্ব কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না।
- অর্থবিল ছাড়া অন্য সব বিল উভয় কক্ষে (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ) উপস্থাপন করতে হবে।
- উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না; এক মাসের বেশি বিল আটকে রাখলে সেটি অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
- নিম্নকক্ষ প্রস্তাবিত বিলগুলো উচ্চকক্ষ পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
- উচ্চকক্ষ অনুমোদন করলে বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে, আর প্রত্যাখ্যান করলে সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে।
নিম্নকক্ষ সংশোধিত বিলগুলো আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
বিএনপি ও জোটগুলোর আপত্তি
তবে এই সিদ্ধান্তে বিএনপি রাজি নয়। দলটি এই বিষয়ে একটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেবে বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি ও তাদের মিত্ররা — জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম ও এলডিপি — দাবি করছে,
“উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দ নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে দিতে হবে” এবং উচ্চকক্ষের ক্ষমতাকেও তারা চ্যালেঞ্জ করেছে।
অন্যান্য দলের মতামত
সিপিবি, বাসদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের ব্যাপারে সরাসরি বিরোধিতা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি,
“বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নেই।”
আলোচনার বর্তমান অবস্থা
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের ২৩তম দিনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় এবং ভিন্নমতের কারণে বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে মতানৈক্য এখনও রয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও ভিন্নমতের কারণে এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে।






