ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে: ধর্মমন্ত্রী

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে: ধর্মমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে কতজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন কর্মরত আছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

তবে ২০২০ সালের একটি হিসাব ধরে তিনি বলেছেন, তখন দেশে মসজিদের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি। সে হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হলে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মাজেদুর রহমান জানতে চেয়েছিলেন, দেশে কতজন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম কর্মরত আছেন এবং তাদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী।

জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮১০ জনকে এ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি ইমাম-মুয়াজ্জিনের মধ্যে কবে নাগাদ কতজনকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা তিনি বলেননি। ধর্মমন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় চালু হওয়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্প বর্তমানে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের সময় কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে জানান তিনি। একই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ বর্তমানে ষষ্ঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

তবে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের এ ধরনের কোনো প্রকল্প না থাকায় অনুরূপ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয় তার জবাবে।

৩৪২টি মডেল মসজিদের কাজ শেষ

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৪২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নারী-যুবসমাজের জন্য ‘ধর্মীয় মূল্যবোধের’ কার্যক্রম

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, নারী ও যুবসমাজের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং ‘জঙ্গিবাদবিরোধী’ সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।

ধর্মীয় নেতা, ইমাম, খতিব, ধর্মীয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাধ্যমে সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও উগ্রবাদবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

নতুন কোনো প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা এবং বাজেট বরাদ্দের আলোকে বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জবাবে বলা হয়।

ধর্মমন্ত্রী জানান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরোহিত-সেবাইত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে।

মসজিদভিত্তিক শিক্ষকদের সম্মানী সাড়ে ৭ হাজার হবে

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী বর্তমানে ৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করা হবে।

হজযাত্রী কমেছে ৮৬০০ জন

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার ৬০০ জন কম হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন বলে জানান তিনি।

ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ, বাস্তব হিসাব নেই

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত জানতে চেয়েছিলেন, গত এক বছরে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সরকারি তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবোত্তর সম্পত্তি কী পরিমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।

জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অ-তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি তালিকাভুক্তকরণ, আদালতে মামলা এবং ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৬৪ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব।

গত এক বছরে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে সরকারি তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবোত্তর সম্পত্তির কতটুকু বাস্তবে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন