ঢাকা   রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার : জোনায়েদ সাকি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে যে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

এ লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রমকে আরো আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংগ্রহ, নিরীক্ষা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

কিন্তু রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে করব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ সম্ভব হলে রাজস্ব সংগ্রহও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাজেট এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় অনেক ছোট।

অথচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। সে কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর সেই সক্ষমতা তৈরির অন্যতম ভিত্তি হবে এই প্রকল্প।

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরো প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারি অর্থ কিভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার নির্ভুল হিসাব ও কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বর্তমান সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরীক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ আরো সুগম করবে।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের সরকারি ক্রয় ও দরপত্র কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক জরিপসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পরিসংখ্যানকে আরো নির্ভুল ও সময়োপযোগী করতে বিবিএসকে প্রযুক্তিগতভাবে আরো শক্তিশালী করা হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পনা বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয়ের কাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো কার্যকর করা হবে। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, পরিকল্পনা বিভাগ এমন একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ও তথ্যভাণ্ডার পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো দ্রুত কার্যকর হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময় ও ব্যয়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে পারলে তা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও (সচিব) মো. মইনুদ্দিন, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর চৌধুরী প্রমুখ।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন