মডেল মসজিদ নির্মাণে সব প্রকল্প ব্যয় মোট কত ছিল, কতটা নাম্বার অব মডেল মসজিদ হয়েছে, তা তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আজই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। মডেল মসজিদের ব্যয় এখন ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটিতে কীভাবে গেলো—সেই প্রশ্নও তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সোমবার ( ১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে ২৩তম দিনে সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।
এদিন সংসদে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রশ্ন করতে দাঁড়িয়ে জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, “এখন নতুন মসজিদের দরকার নাই। যারা অতীতে মডেল মসজিদের ব্যয় ১৩ কোটিকে ২১ কোটি করেছে, সেই বিষয়গুলো দেখেন। সব মসজিদ ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। সেনবাগের মসজিদে ঢোকা যায় না, পানি পড়ে। বিষয়গুলো আমি ধর্মমন্ত্রীর কাছে জানবো যে বিষয়গুলো একটা তদন্ত করে যারা ১৩-কে ২১ করেছে, এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে কিনা?”
এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আপনি বললেন এই কারণে আমারও বলতে ইচ্ছা হচ্ছে। আপনার সেনবাগে যে অবস্থা, আমার দুর্গাপুরে তারচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা। সামনে বিরাট বড় একটা পুকুর, এর পেছনে মডেল মসজিদ। একটা ব্রিজ করে মডেল মসজিদে যেতে হবে। স্থানীয় লোকজন সেই মসজিদের নাম দিয়েছে তাজমহল। যেহেতু মসজিদের সামনে বিরাট বড় পুকুর, তাজমহলের দৃশ্যটা যেমন পানির সামনে বা পেছনে একটা আছে, ওইটাও ওইরকম—নাম দিয়েছে দুর্গাপুরের তাজমহল। মসজিদের সামনে বিশাল আকারের পুকুর। এখন এটাতে ঢুকতে গেলে আপনার ব্রিজ করতে হবে। মসজিদ আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ জন্য নাম দিয়েছে তাজমহল।”
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক, উনি অত্যন্ত প্রবীণ সংসদ সদস্য, উনার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। এটা সর্বক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অর্থ লুটপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমি এখানে বলছি না যে পদ্মা সেতুর মতো দুর্নীতি এখানে হয়েছে। তবে ইসলামের নামে, মসজিদের নামে তারা যা করেছে, সেটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। মডেল মসজিদ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রকল্প ব্যয়, প্রাক্কলন সেটা যথাযথ হয়েছে কিনা এটা একটা খুবই যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। ১৩ কোটি ব্যয় ২১ কোটিতে বৃদ্ধি হয়েছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাহেবের যে হোয়াইট পেপারটা প্রকাশিত হয়েছে, আমি কয়েক দিন আগেও বাজেট স্পিচে বলেছি, তাতে এরকম মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির জন্য মেগা বাজেট করা হয়েছে। এবং সেটা সময় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৫ বছর থেকে ৭ বছরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুর্নীতি করার জন্য প্রাক্কলনের মধ্যেই আগে ঢুকেছে। তারপরে দুর্নীতি হয়েছে, সময় বৃদ্ধি হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, তার ওপর। এখন ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটিতে কীভাবে গেলো, এই মডেল মসজিদগুলোর সব প্রকল্প ব্যয় টোটাল কত ছিল, কতটা নাম্বার অব মডেল মসজিদ হয়েছে, সব মসজিদ-ওয়ারি সেটা তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমি আজ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেবো। এর মধ্যে সরকারি অন্যান্য সংস্থাও জড়িত হতে পারে। সেটা খুবই ন্যায্য প্রশ্ন।”






