২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন সরকারের পরিকল্পিত কৌশলের এক চাঞ্চল্যকর অডিও প্রমাণ আজ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের মধ্যকার এই ফোনালাপটি ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে দাখিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আজ মামলাটি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য রয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত সরকারের কথা না শুনলে টেলিভিশন বন্ধের হুমকি সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ উপস্থাপন করা হবে।
কাদের ও আরাফাতের ফোনালাপ:
ওবায়দুল কাদের: এই যে যারা কথা শোনে না, টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা…
আরাফাত: ওই যে অফ করে দিছি গতকাল দুই একটা। আজকেও বলে রাখছি যেগুলো শুনবেন না অফ করে দিতে সাথে সাথে।
ওবায়দুল কাদের: আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।
আরাফাত: আজকে ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অফ দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব……।
আর ওই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বসা রাখছি যে, আপনি কন্সট্যান্টলি দেখবেন যে, টিভি সংঘর্ষের ছবি দেখাবে সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোন পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম আর উইদাউট মাই পারমিশন এটা অন করবেন না, আর এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই।
ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।






