প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : অনেকদিন ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় এই শূন্যপদ পূরণে অবশেষে অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।
পিএসসির অনুমোদন মিললে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে।
পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের। শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা।
২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়।
মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।






