আপসনামা দাখিল করেও ফের এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : আপসনামা দাখিল করেও জামিন মেলেনি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ফের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, ‘নজরুলের জামিন হলে ‘সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে।’
বুধবার (০৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
এদিন মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়েছে এবং বাদীপক্ষের জামিনে কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে আসামিপক্ষের নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।
শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ‘মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষেরও জামিনে আপত্তি নেই। তবে শুনানি শেষে আদালত নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।’
পরে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আসামি বয়স্ক। ভিকটিম অতি অল্পবয়স্ক মেয়ে মানুষ। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছে। হাজতবাস পর্যাপ্ত নয়। এই মামলায় আসামি জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। আসামির জামিন নামঞ্জুর করা হলো।’
ফলে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এদিকে মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার জামিন আবেদনের শুনানিও আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।






