ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ নিয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৮ এএম

নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ নিয়ে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। গত শুক্রবারের এই হামলায় জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম স্বপনসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। রাতে মিছিল করে সদর থানায় অবস্থান নেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মামলা শেষে পুলিশ কর্মকর্তাদের আলটিমেটাম দিয়ে বের হয়ে যান তারা। পরে কলেজ মোড়ে সমাবেশ করেন। সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছে জেলা বিএনপি। মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে দলটি।

জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, গত শুক্রবার বিকেলে শেরপুর-১ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ডাকপাড়া গ্রামে গণসংযোগ করতে যান। এ সময় বাধা দেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয়। তিনি বলেন, তারা থানায় অভিযোগ করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

রাতে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম থানা থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের জানান, চার শতাধিক নেতাকর্মীর বহর নিয়ে তারা ডাকপাড়া পৌঁছালে বাধার মুখে পড়েন। বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার সময় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়।

সদর থানার ওসি জুবায়দুল আলম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে জামায়াতের মিছিল ও থানায় অবস্থান শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি। প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, জামায়াতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি বলেন, জামায়াতের লোকজন মসজিদ-মাদ্রাসায় গিয়ে ধর্ম প্রচারের নামে ৫০০ করে টাকা দিয়ে শপথ করাচ্ছেন যাতে তাদের ভোট দেওয়া হয়। ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে এমন কথাও বলা হচ্ছে। তারা এভাবেই দেশের সহজ-সরল জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছেন। তার ভাষ্য, দেশের আইনে লাঠিসোটা নিয়ে কোনো মিছিল-সমাবেশ করার বিধান নেই। অথচ তারা লাঠিসোটার ওপরে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে পতাকা অবমাননা করে সভা-সমাবেশ করছিলেন।

এ ধরনের আয়োজন দেখে স্থানীয় লোকজন বলেছেন, সভা-সমাবেশ করতে এসেছেন তাহলে লাঠিসোটা কেন? এই কথা জিজ্ঞেস করায় তারা তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা পালিয়ে যান। তিনি প্রশ্ন করেন, বিএনপির কোনো দোষ থাকলে সেখানেই জামায়াত মিছিল বা সংবাদ সম্মেলন করতে পারত। কিন্তু সেটা না করে সদরে এসে শলাপরামর্শ করে থানা ঘেরাও করলেন। কলেজ মোড়ে বেআইনিভাবে সমাবেশ করলেন। দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে ডাকপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে জামায়াত। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামী। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বক্তব্যকে ভদ্র আচরণের পরিপন্থি বলে আখ্যা দিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য (বিএনপির আহ্বায়ক) সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সহায়ক হবে।

হাফিজুর রহমান বলেন, চুনিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় ডাকপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান, লুৎফর রহমান তারেক, মামুনুর রশিদ, মাহফুজুল ইসলামসহ ১০-১২ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই বিএনপির বলে দাবি করে তিনি বলেন, এমন ন্যক্কারজনক হামলায় শেরপুরে আগামী নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (আজ) বিকেল ৪টায় খোয়ারপাড় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন তারা।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন