বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারে আসলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ে দেশের চিত্র পাল্টে দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াতের সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আর আমরা সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। বড় একটি দল বলেছে- তারা জামায়াতে ইসলামী বাদে বাকি সব দল নিয়ে কাজ করবে। আমরা বলছি, আল্লাহ যদি আমাদের সরকারে বসায়, তাহলে তাদেরসহ সবাইকে নিয়েই আমরা দেশ গড়ব। দেশের চিত্র পাল্টে দেবো। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ উপহার দেবো।
তিনি বলেন, একদল লুটপাট করবে, বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া করবে, মানুষ অত্যাচারের শিকার হবে- এমনটা আমরা চাই না। এজন্য জনগণের প্রত্যাশা- এবার আমরা পরিবর্তন চাই। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। আর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ আর ব্যাংক লুটপাট করবে না, খুন করবে না, মানুষের জিনিসপত্র আত্মসাৎ করবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা শিক্ষার উন্নয়ন করতে চাই, মানুষের কল্যাণ করতে চাই, দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। সমাজ নষ্ট করা ইঁদুরদের আমরা তাড়াতে চাই। আপনারা আপনাদের হাত আমাদের জন্য বাড়িয়ে দিন।
তিনি বলেন, যতদিন জামায়াতকে দেশের কল্যাণে দেখবেন, দেশ গড়তে দেখবেন, ততদিন আপনাদের হাত বাড়িয়ে দেবেন। সবাই মিলেই বাংলাদেশ। আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবে না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চড়বে না। জনগণের ওপর ট্যাক্স বসানোর জন্য আমাদের ভোট দেবেন না। জনগণের পাহারাদারি করার জন্য আমাদের ভোট দেবেন। নাহলে আমাদের ভোট দেবেন না। আমরা ভালো করলে ভালো বলবেন, আর খারাপ করলে আমাদের ধরবেন, ছাড় দেবেন না। অবশ্যই আমাদের ভুল ধরিয়ে দেবেন।
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রবাসে ১৪ দিন কাটিয়ে এসেছি, প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনাদের ভোটের অধিকার ছিল না, আমরা লড়াই করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রবাসীদের একটি অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে বাকি অধিকারগুলোও প্রতিষ্ঠিত হবে। সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। প্রবাসীরা তাদের আগ্রহের কথা আমাকে জানিয়েছেন। সকলকে ভোটের আওতায় নিয়ে আসা হোক। এখন যতটুকু পারা যায়, ততটুকু অন্তত করা হোক। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশ গড়ার কাজে প্রবাসীদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবো, ইনশাআল্লাহ।
১৫ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে এমন একটা সময় ছিল, মানুষ মুখ খুলে কথা বলতে পারতো না, কর্মস্থলে যেতে পারতো না, জীবনের কোনো গ্যারান্টি ছিল না। গুম হওয়া মানুষগুলো কখনো আর ফিরে আসবে কিনা, তার নিশ্চয়তা ছিল না। কখন কোন মায়ের বুক খালি হবে, কোন বোন বিধবা হয়ে যাবে, অতীতে সমাজে এই আশঙ্কা সর্বদা বিরাজমান ছিল।
জামায়াত আমির বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের নিষিদ্ধ করেছিল। অন্য কোনো পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিছু দলের ওপর হামলা-মামলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো বুলডোজার দিয়ে আর কারও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়নি। আমরা এখনো বেঁচে আছি, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু তারা নেই। এটাই আল্লাহর ফায়সালা।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর কেউ যদি আমাদের ওপর আগের মতো অবিচার চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমরাও বসে থাকবো না। দোয়া করুন, সতর্ক থাকুন, বাংলাদেশ যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদের মুখে না পড়ে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে আয়োজিত ওই সুধী সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। মহানগর নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যদের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও সিলেট-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
এদিন সুধী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তি ছাড়াও বন্ধুপ্রতীম ও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।





