বাংলাদেশে দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘প্রহসনমূলক প্রতিহিংসার ফল’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। রায় ঘোষণার পর স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, শুধু তাকে নয়, তার স্বজনদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। টিউলিপের ভাষায়, “কয়েক সপ্তাহ আগে আমার খালাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রমাণ।”
টিউলিপ বলেন, গত দেড় বছর ধরে তার বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষমূলক’ অভিযোগ ছড়ানো হলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কখনোই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যুক্তরাজ্যে আইনজীবী নিয়োগ করে বারবার বাংলাদেশে চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও কোনো জবাব পাননি তিনি।
তার দাবি, বাংলাদেশে আইনজীবী নিয়োগের চেষ্টা করলেও সেই আইনজীবীকে আদালতে ভয়-ভীতি দেখানো হয় এবং পরে তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
গত জুনে লন্ডন সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর কথাও তুলে ধরেন টিউলিপ। তিনি বলেন, “তাকে বলেছিলাম—একসঙ্গে বসে কথা বলি, ভুল বোঝাবুঝি দূর করি। কিন্তু তিনি দেখা করতে অস্বীকার করেন।”
টিউলিপের অভিযোগ, বাংলাদেশ কোনো সমন পাঠায়নি বা যোগাযোগ করেনি। “আমি একজন সংসদ সদস্য। হাউস অব কমন্সে কাগজ পাঠালেই আমাকে পাওয়া যেত,”—বলেছেন তিনি। নিজের অবস্থাকে তিনি “কাফ্কার দুঃস্বপ্ন” বলে অভিহিত করেন।
মামলায় অভিযোগ ছিল, ঢাকায় আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে শেখ রেহানা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বোনকে সহায়তা করেন এবং টিউলিপ সিদ্দিক নাকি তার খালাকে ‘প্রভাবিত’ করে এ প্লট বরাদ্দে ভূমিকা রাখেন।
কিন্তু টিউলিপ প্রশ্ন তুলেছেন— “আমি তখন ব্রিটেনে বিরোধী দলের এমপি। আমার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী, প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাবান একজন মানুষকে আমি কীভাবে প্রভাবিত করলাম—এর কোনো প্রমাণ কোথায়?”
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই যুক্তরাজ্যে সমালোচনার মুখে ছিলেন টিউলিপ। জানুয়ারিতে আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল তাকে। তবে নতুন সাজা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন—পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।
“লেবার পার্টি আগেই বলেছে, তারা এই রায়কে স্বীকৃতি দেয় না, কারণ প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণ,”—বলেছেন তিনি।
টিউলিপ আরও জানান, ব্রিটেনের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ, রবার্ট বাকল্যান্ড ও ডেভিড গকও মামলাটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে টিউলিপ বলেন, “এভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ বিচারপ্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া তার জন্য লজ্জার। তিনি আমাকে হেনস্থা করছেন, আমার সুনাম নষ্ট করতে চাইছেন এবং একজন নির্বাচিত ব্রিটিশ এমপিকে বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতির মধ্যে টেনে আনছেন।”
বার্তাবাজার/এমএইচ





