ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এই হামলা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের কথা বলার স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।
যে মুহূর্তে দেশের আপামর জনতা জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র ও ন্যায্যতার দাবি তুলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন হামলা প্রমাণ করে— বিশেষ কোনো গোষ্ঠী এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে মরিয়া। মুক্তচিন্তা ও প্রতিবাদের অধিকারকে স্তব্ধ করার জন্যই এই হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা শুধু ওসমান হাদির ওপর নয়, বরং দেশের স্বাধীনচেতাদের উপরও নগ্ন হস্তক্ষেপ।
শরিফ ওসমান হাদির মতো যারা বিভিন্ন মঞ্চ ও প্ল্যাটফর্ম থেকে জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরছেন, তারা কার্যত এই জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতীক। বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন ও মঞ্চের মাধ্যমে জনগণের দাবি-দাওয়া, অসঙ্গতি ও সরকারের ব্যর্থতাগুলো সামনে আসছে। ওসমান হাদির ওপর হামলা করে সেই বিপ্লবী চেতনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু শরিফ ওসমান হাদির মতো একজন সৎ ও দেশপ্রেমীর ওপর হামলা প্রমাণ করে, দেশে এখনো ভিন্নমতকে সহ্য করার মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়নি।
দেশের জনগণের অধিকার ও বাকস্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, এই হামলা কেবল ওসমান হাদির ওপর নয়, বরং জনগণের স্বাধীনভাবে কিছু বলতে চাওয়ার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।
হাজারো জুলাই গাদ্দারের ভীরে একমাত্র এই শরিফ ওসমান হাদি-ই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধরে রেখেছিলো। একটি আদর্শ ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন বুনেছিলো! হাদিকে গুলি করা মানে বিপ্লবের উপর হামলা করা! জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকে ধুলিমাখা করে দেওয়া! ওসমান হাদির কিছু হলে বাংলাদেশ পুনরায় এলোমেলো হয়ে যেতে পারে! কারণ জুলাই আন্দোলনে যারা দেশের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিলো জুলাই পরবর্তী সময়ে আদর্শ ও কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের প্রতিনিধি হচ্ছে এই ওসমান হাদি।
দেশের জনগণের অধিকার ও বাকস্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট এবং কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন অক্ষুণ্ন থাকে।
বার্তাবাজার/এমএইচ





