আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টায় যমুনা টেলিভিশনের সামনে শুরু হয়েছে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচি। এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আন্দোলনটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণে ব্যাপকতা পেয়েছে।
জুলাই মাসে যে গণআন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তার নেতারা আবারও সবার প্রতি রাজপথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, "ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে সরকার যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে তা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। দলটির নিষেধাজ্ঞা ও নিবন্ধন বাতিলের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। আসামিদের জামিন দেওয়া হচ্ছে, অথচ বিচার হচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবে আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম—মুজিববাদীদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। আজ রাতেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে আওয়ামী লীগের ভাগ্য নিয়ে। যতদিন পর্যন্ত তাদের বিচার ও নিষিদ্ধের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না আসবে, আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
এ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির প্রধান সংগঠক সারজিস আলমও। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “হাসনাতের নেতৃত্বে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে সবাই যোগ দিন। নয় মাস কেটে গেলেও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান আসেনি—এখন সময় এসেছে দৃঢ় অবস্থানের।”
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “এই সংগ্রাম শুধু রাজনীতি নয়, আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেই এই বিপ্লবকে স্থায়ী করতে হবে।”
এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিষিদ্ধের গুঞ্জন। আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লেখেন, “আওয়ামী লীগের দুই সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা প্রায় সম্পন্ন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং এর অধীন সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা। আমরা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।”
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাজপথে উত্তেজনা বাড়ছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা না আসা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।





