বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই হবে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।
শনিবার (শনিবারের তারিখ দিন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এলাকায় সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল ‘সম্প্রীতি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বারবার হোঁচট খেয়েছে’
বক্তব্যের শুরুতে সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের চড়াই-উতরাইয়ের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যে সাম্য ও মানবিক মর্যাদার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, দুঃখজনকভাবে সেই স্বপ্ন বারবার হোঁচট খেয়েছে। অতীতে গণতন্ত্রকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা আর সেই অন্ধকার পথে ফিরে যেতে চাই না।”
বিভাজন নয়, ঐক্যের রাজনীতি
সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আমাদের সন্তান এবং মুক্তিযোদ্ধারা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের রাজনীতির মাধ্যমেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
‘এ দেশ আমাদের সবার’
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ দেশ কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, এ দেশ আমাদের সবার। সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবার রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। এখানেই আমাদের জন্ম এবং এখানেই আমাদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হবে। তাই ভেদাভেদ ভুলে আমাদের মিলেমিশে থাকতে হবে।”
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার
শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, মানুষের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বিএনপি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, জনগণ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।”
উক্ত সম্প্রীতি সমাবেশে স্থানীয় সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।






