নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। তিনি বিজয়ী দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ও তার সহযাত্রীরা আগামীতে গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাসনিম জারা এই প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, নারীদের অংশগ্রহণ, ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বিজয়ীদের অভিনন্দন, গঠনমূলক বিরোধিতার অঙ্গীকার
তাসনিম জারা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য আমি বিএনপিকে অভিনন্দন জানাই। ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকেও অভিনন্দন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতেই আমি তাকে ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছি। ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তাদের সাফল্য কামনা করি। আমরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করব। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।’
ক্যাম্পেইনে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ বড় প্রাপ্তি
নিজের ক্যাম্পেইনে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইনে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ছিল এক বড় প্রাপ্তি। অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। যে কিশোরী বা তরুণীরা এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখেছো, তোমাদের বলছি, স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। ক্ষমতার কেন্দ্রে তোমারও অধিকার আছে।’ রাজনীতিতে নারীদের আরও বেশি সামনে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ভলান্টিয়ারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ক্যাম্পেইনের ভলান্টিয়ারদের ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ’সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, তা বিরল। মন খারাপ করবেন না। আপনারা মানুষের মন জয় করেছেন, আর সেটাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন জয়।’ সংগঠিত ও সোচ্চার থেকে একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশে থাকার ঘোষণা
নির্বাচন শেষে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে তাসনিম জারা বলেন, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য আমরা এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ। আর আপনাদের সঙ্গে এই পথ চলা আমার জন্য সম্মানের।’
পরিচ্ছন্ন রাজনীতির বার্তা
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে তাকে শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচনের দিনে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মডেলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যা যেকোনো ভয়ভীতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।’
নির্বাচন আয়োজনে কৃতজ্ঞতা
তাসনিম জারা বলেন, ‘জুলাইয়ের অকুতোভয় যোদ্ধারা রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আজ গণতন্ত্রের যে স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে, তা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি অধ্যাপক ইউনূস ও তার টিম এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। জটিল সময়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকে তিনি একটি জরুরি ও কঠিন দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত জরুরি একটি দায়িত্ব।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৪৪ হাজারের বেশি ভোটকে ‘বিশাল ফাউন্ডেশন’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইন ও ফলাফল প্রমাণ করেছে—মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চান। আমরা রাজনীতির পুরোনো ছকটি ভেঙে দিতে পেরেছি। আমরা ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাব।’
পোস্টের শেষাংশে তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।






