ঢাকা   রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আইনের আশ্রয় নেবে ১১ দলীয় জোট

Authorনিউজ রুম

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

আইনের আশ্রয় নেবে ১১ দলীয় জোট

৩২ আসনে ছোট ব্যবধানে ফল হেরফের করে ‘ইলেকশন ম্যানিপুলেশন’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোট। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে তারা।

রোববার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগণনা, ফলাফল প্রকাশের ত্রুটির বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। ভোটে অনিয়ম হয়েছে এমন ৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।  খেলাফত মজলিসের, আমি জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়কসহ অনেকের ক্ষেত্রেই এ ঘটনা ঘটেছে। এসব তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। বলেছি এগুলো পুনর্গণনা করা হোক।’

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ীদের তালিকাসহ গেজেট প্রকাশ হওয়ায় আর কিছু করার নেই। তবুও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগের জন্য জামায়াত প্রতিনিধিদের জন্য আইনে দরজা খোলা আছে।

তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করায় নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, শিগগিরই তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন, কারণ ইসি তাদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় গেজেট করা হয়েছে। গেজেট হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযোগের সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে প্রার্থীদের। অথচ তড়িঘড়ি করে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালেই জামায়াত ও এনসিপির প্রতিনিধিরা ইসির কাছে গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন করেছিলেন।’

ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে হামিদুর রহমান বলেন, ‘এসব আসনের গেজেট স্থগিত রেখে পুনর্গণনার মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দেন, গেজেট করেন। এখন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। উনারা বলছেন উনাদের নিয়ত ভালো, আইনের দরজা খোলা রয়েছে। সবই শুনেছি। আমরাও বলেছি অভিযোগ দিয়ে গেলাম, আমরাও আইনের প্রক্রিয়ার মধ্যে যাব। কিন্ত এখানে আমাদের অধিকার ক্ষুন্ন করা হলো- সে প্রশ্ন রয়েই গেল।’

‘অতীতে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছিল, সে জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা একটি সুন্দর ঐতিহাসিক নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা ছিল- এবার সে নির্বাচন হবে। তবে তার অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়নি’ বলে অভিযোগ করেন এই জামায়াত প্রতিনিধি।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনের ভোটগ্রহণ, গণনা, ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই তিন ধাপের মধ্যে ভোটগ্রহণের বেলায় অতীতের তুলনায় এবার গুণগত পরিবর্তন দেখেছি কিছুটা। খুন, সহিংসতা ছিল না। তবে ভোটগ্রহণের সময় অসুস্থ পরিবেশ ছিল নানা ধরনের। সুচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয়নি। জালভোট, কালোটাকা ছড়াছড়ি ও কোথাও হুমকি হামলা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন উপাদান তৈরি হয়েছে।’

‘দ্বিতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রার্থীর চিফ এজেন্টদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ দায়ের করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখিনি’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, যৌথবাহিনীর থাকলে হারানো চার শতাধিক পিস্তল এখও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। অবৈধ উদ্ধার তো আছে। এগুলো নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে ভূমিকা রেখেছে’  বলেও মনে করেন হামিদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘কালো টাকা, অস্ত্র, হুমকির পাশপাশি ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কাযক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। কোনো কোনো কেন্দ্রে অফিসাররা ব্যালটে সিল মারা, দলীয় কর্মীদেরও সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। আবার ভোটের সময় বাধা দিয়ে ভীতিকর পরিবেশের কারণে তুলনামূলক কম ভোট পড়েছে। ১১ দলের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ও ইসিতে বলার পরও সন্তোষজনক পদক্ষেপ পাইনি।’

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। ফল গণনারও সুষ্ঠু পরিবেশ কোথাও কোথাও ছিল না। যার প্রভাব ভোটের ফলে পড়বে-এটিই স্বাভাবিক। কাজেই ত্রুটিপূর্ণ রেজাল্ট শিট হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!