ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পেয়ে ৪৮ প্রার্থীর মধ্য ৩৬ জনই জামানত হারালেন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না তারা।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত পাঁচজন রয়েছেন। যাদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্যও আছেন। জেলার পাঁচটি আসনের বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য পাওয়া যায়। জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ভোটের সংখ্যা এক হাজারও পার করতে পারেননি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জামানতের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রার্থিতার প্রমাণক হিসেবে কমিশনে জমা দেন। প্রার্থী এ টাকা কমিশন থেকে ফেরত পাবেন, তবে তাকে সেজন্য অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই ভোট পেয়েছেন সাড়ে ১২ শতাংশের কম। আসনটিতে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৮১ ভোট পড়েছে। কিন্তু এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যুবদল নেতা বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত মোহাম্মদ দুলাল ৪৬৩ ভোট (তিনি বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান), গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন ২১৯ ভোট (তিনিও বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ ৭ হাজার ১৮৬, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন ২৬১ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেহান আফজাল ২০৭ ভোট পেয়েছেন।
এ আসনে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাকিরা জামানত হারিয়েছেন।
যারা জামানত হারালেন–স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ ৫ হাজার ২৬৫ ভোট, সিপিবি’র হাফিজুল ইসলাম ৩৫০ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয় ২২৭ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ১৪২ ভোট।
এ আসনে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৬ ভোট পড়ে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াছ মোল্লা পেয়েছেন ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী ও পরাজয়ী দুইজন ছাড়া বাকি নয়জনই জামানত হারালেন। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪৫৯৬ ভোট, বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পান ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস ৬৩৮ ভোট, জনতার দলের আবদুল করীম মুন্সী ২৮৫ ভোট, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আরিফুল ইসলাম ১৩৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ ১৪ হাজার ২২৩ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহজাহান ১ হাজার ১৯৩ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী পান ৭৬৯ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী ৩১৪ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনসহ ১০ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তিনি মূলত নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন। তিনি ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট।
এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের ইছমাঈল হোসেন কাউছার ১৬ হাজার ৭৪৬ ভোট, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী ১১ হাজার ৩২৮ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন ৮০০ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির ইকবাল হোসেন ৪৭৯ ভোট, জাতীয় পার্টির ছালাউদ্দিন খোকা ৮১৭ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া ১০৬ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সুলাইমান দেওয়ান ৩৭০ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ ৬৪৩ ভোট এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সেলিম মাহমুদ ২৮২ ভোট পান।
এ আসন ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোট পড়ে। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে
ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট পেয়েছেন। তবে বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর বন্দর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন পান ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। এ আসনে ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোট পড়ে। আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৭ জন জামানত হারান।
তবে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। জামানত হারান ইসলামী আন্দোলনের মো. মাছুম বিল্লাহ ৭ হাজার ৭০৮ ভোট, সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ ১ হাজার ৫৭৫ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম ১ হাজার ২৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের নাহিদ হোসেন ৬৪৩ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী ৪ হাজার ৬৫০ ভোট, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ৩৭০ ভোট এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা ২৪২ ভোট পেয়েছেন।






