ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে চলা সংঘর্ষ নিয়ে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ বিকেলে চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে বহিরাগতসহ ছাত্রদল নামধারী সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে পৈশাচিক ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমি এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা শিক্ষাঙ্গনে যে বর্বরতা ও সহিংসতা চালালো, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা, গুরুতর জখম এবং একজনের পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন করার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রমাণ করে, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসের জায়গা হতে পারে না উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রকাশ কখনোই অস্ত্রের ভাষায় হতে পারে না। এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হুমকির মুখে ঠেলে দিবে।’
ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেইসঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানান তিনি।
শিক্ষাঙ্গনে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যকার উত্তেজনা গড়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিকেলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিকেল ৪টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড় থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সিটি কলেজের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় কলেজের সামনে আগে থেকে অবস্থান নেয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এ সময় উভয় পক্ষকে মাথায় হেলমেট পরে এবং হাতে কিরিচসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে দেখা যায়। এছাড়া একে অপরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। সংঘর্ষের জেরে আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।






