ঢাকা   বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সিজনাল আসামি সেজেছিল’: ড. মাসুদ

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

‘বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সিজনাল আসামি সেজেছিল’: ড. মাসুদ

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ‘কার্ড দিয়ে সংকট সমাধান করা যাবে না, সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজন কার্যকরী পদক্ষেপ।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, এলপিজি কার্ডসহ সরকারের যত ধরনের কার্ড আছে, সেই কার্ড কি প্রতিটি পরিবার পাবে? যদি না পায় তাহলে কি রাষ্ট্রকর্তৃক আবারও বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে না?’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটে সরকার এলপিজি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু কার্ড দিয়ে সংকট সমাধান হবে না।’

কার্ডে নামে জনগণকে ধোঁকা না দিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধ হলে সংকট কেটে মানুষের স্বস্তি ফিরে আসবে। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের রক্ত লেগে আছে। রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।’

বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে সিজনাল আসামি সেজেছিল উল্লেখ করে মাসুদ বলেন, ‘যখন আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি ঘোষণা হতো, তখন বিএনপির নেতারা স্বপ্রণোদিত হয়ে আটক হতো। তবে আটক হয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মতো রিমান্ড, জেল-জুলুমের স্বীকার হতে হয়নি। তারা কারাগারে গিয়েই অসুস্থতার ভান ধরে হাসপাতালে শুয়ে থাকত। তা-ও কারাগারের হাসপাতালে নয়, বাহিরে আধুনিক উন্নতমানের হাসপাতালে।’

নিজের রিমান্ড ও জামিন না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আমার জামিন হচ্ছে না, তখন বিএনপির নেতারা পরামর্শ দিয়েছে ম্যানেজ করে জামিন নিতে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ম্যানেজ করে চালার রাজনীতি করেনি, করবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা জামায়াতে ইসলামীকে গুপ্ত বলে তারাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বিঘ্নে ছিল। যখন ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচির ডাক দেন, তখন কর্মসূচির দিন ভোর ৫টা থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মোবাইল বন্ধ ছিল। কেউ রাজপথে তো নামেই নাই, এমনকি মোবাইল ফোনও খোলা রাখেনি। আজকে যাদের গুপ্ত বলা হচ্ছে, সেদিন রাজপথে সেই জামায়াত-শিবির ছিল। এমনটি সেদিন ছাত্রশিবিরের মনসুর শহীদ হয়। যেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে সেই জামায়াত শিবিরকে পলাতক বিএনপি এখন গুপ্ত বলছে। এটা জামায়াত-শিবিরের জন্য নয়, বরং বিএনপির জন্যই লজ্জার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রধান নির্বাচনের আগে বারবার বলেছিলেন, বিএনপি সুযোগ পেলে জাতীয় সরকার গঠন করবে। কিন্তু কোথায় সেই জাতীয় সরকার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যারা নির্বাচনের পর গণভোটের রায় মানে না, তারাই আসল মোনাফেক। যেই জায়গায় কথা বলে দেশে এসেছে, সেই জায়গার কথা মতোই এখন দেশ চলছে। পলাতক নেতা কিন্তু নিজে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন দেশে আসা তার একক নিয়ন্ত্রিত বিষয় নয়। যাদের কাছে তার দেশে আসার বিষয় নিয়ন্ত্রিত ছিল তিনি আজ তাদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত। তাদের নির্দেশে দেশ চলছে, তাদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেই স্বপ্ন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ জীবন ও রক্ত দিয়েছে, সেই স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!