বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সন্ত্রাসী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
রিজভী বলেন,
“বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোনো সন্ত্রাসী বা সহিংস কাজ করলে কেউ রেহাই পাবে না। ভিডিও-অডিও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে যেই দায়ী প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রতিদিনই এসব ঘটনা নজরে রাখি এবং ব্যবস্থা নিই।”
✅ কুড়িগ্রামে বহিষ্কার: দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
তিনি উদাহরণ হিসেবে জানান, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মশাল মিছিল, ভাঙচুর ও সহকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত শেষে চিলমারী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হোসেন পাখি এবং সদস্য আবদুল মতির শিরিনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
❌ কুমিল্লা ও ভোলায় বহিষ্কার: সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ
রিজভী আরও জানান,
- কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার পাছথুবী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা খোকন মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার মহিলা দলের একজন নেত্রীকে মারধরের ঘটনায় বহিষ্কৃত হয়েছেন।
🏨 বনানী কাণ্ডে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার
রিজভী বলেন,
“বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মুনির হোসেনের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ নারীদের ওপর হামলা চালায়, যা অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। যুবদল তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বহিষ্কার করেছে। এ ধরনের অপকর্মে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
📢 ৫ আগস্টের পর ৪-৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
রিজভীর দাবি,
“৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে দলীয় নাম ব্যবহার করে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন বা দুর্বৃত্তায়নে লিপ্ত হয়েছে—তাদের চিহ্নিত করে ৪-৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
🔒 ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিজভী।
তিনি বলেন,
“রাজনীতিকদের আচরণে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াতে হবে। জনগণকে অনুপ্রাণিত করার মতো ব্যক্তিত্ব না থাকলে রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা চাই, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিনয়ী, সদাচারী ও সমাজের জন্য আদর্শ হোক।”






