স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১১ জুন সংসদে বাজেট ঘোষণা করা হবে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, আগামী বাজেটের মধ্য দিয়ে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা একটি রেইনবো স্টেট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু একটি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা ধর্মের নাম বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে তারা অস্বীকার করে। বাংলাদেশকে তারা ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে চায়। ধর্মভিত্তিক সমস্যা তৈরি করে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে চায়। এটা আমরা কখনো হতে দিতে পারি না। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি চারন করে মন্ত্রী বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে তিনি একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান যদি ৮১ সালে শহীদ না হয়ে ৭৫ সালে হতেন, তাহলে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতো। এই কথাতেই বোঝা যায় জিয়াউর রহমান একটি দেশকে কিভাবে বিপর্যয়ের হাত থেকে টেনে তুলেছিলেন।’
বিগত ১৭ বছর জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তাকে খাটো করতে পারেনি। মানুষ হৃদয় থেকে মুছে দিতে পারিনি। ইতিহাস থেকেও মুছে দিতে পারেননি। আজকে ইতিহাস তাকে ধারণ করেছে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এটি স্বীকৃত। অথচ ৭১ সালে রাজনীতির নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা পালিয়ে গিয়েছিল।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রেইনবো স্টেট তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আজকে বাংলাদেশ যে অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে আছে তার ভিত্তি রচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। কারণ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিল। কর্মসংস্থান ছিল না, চরম দুর্নীতির কারণে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতি শুরু করেছিলেন। বিদেশে শ্রমিক পাঠানো ও গার্মেন্টস রপ্তানি মাধ্যমে রেমিট্যান্স আনার সূচনা করেছিলেন৷ কৃষি বিপ্লব, খালখনন কর্মসূচি চালু করেছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাত ধরেই নারীদের অগ্রগতির সূচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এসএসসি পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। আজকে তাদেরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অল্প দিনের মধ্যে শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পক্ষে নিয়ে এসেছেন। ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজিনসহ সব ধর্মগুরুদের সম্মানি দেওয়া, স্কুল-কলেজে খেলাধূলা শুরু করা এবং নতুন কুড়ি চালুর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার প্রমুখ।






