সংবিধানের ৪ মূলনীতি বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ মুহূর্তের বৈঠক বর্জন করেছে দেশের বাম রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান বৈঠক থেকে তারা বেরিয়ে আসে।
বৈঠক বর্জনকারী দলগুলো হলো:
- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)
- জাসদ
- বাসদ (মার্কসবাদী)
বাম দলের নেতারা সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নতুন মূলনীতিতে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি’র কথা বলা হলেও বায়াত্তরের সংবিধানে থাকা মূল ৪ নীতির উল্লেখ করা হয়নি, যা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
🧾 কমিশনের প্রস্তাবিত মূলনীতি:
- সাম্য
- মানবিক মর্যাদা
- সামাজিক সুবিচার
- ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি
👉 বাম দলগুলোর দাবি, এতে সংবিধানের মূল ৪ নীতির (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) অবকাশ তৈরি হয়েছে।
🏛️ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রস্তাব পাস:
ঐকমত্য বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে একমত হয়েছে:
- বিএনপি
- সমমনা জোট
- ১২ দলীয় জোট
- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
- লেবার পার্টি
- খেলাফত মজলিস
তবে গঠন প্রক্রিয়ার র্যাঙ্কিং পদ্ধতি নিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে দলগুলো।
📋 তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবিত কাঠামো:
কমিটির সদস্য হবেন:
- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী
- বিরোধীদলীয় নেতা
- স্পিকার
- ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের)
- প্রধান দুই দলের বাইরে তৃতীয় বৃহত্তর দলের একজন প্রতিনিধি
- সাবেক দুই বিচারপতি
এই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত সদস্যদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও অন্যান্য সদস্য মনোনয়ন দেবে।
🗣️ বিএনপি ও মিত্রদের আপত্তি:
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলেও র্যাঙ্কিং ভিত্তিক গঠন পদ্ধতির বিরোধী।
তাদের দাবি, সরকার গঠনের দায়িত্ব সংসদের ওপর ন্যস্ত করা উচিত।






