বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন বা কসমেটিক রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের আঠারো কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য মানুষের অন্তরের রূপান্তর অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু মনে রাখতে হবে পরিবর্তন মানে শুধু পরিবর্তন নয়, বরং আমাদের বুঝতে হবে কোন পরিবর্তন সত্য ও সঠিক।’
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এই আলোচনা আয়োজন করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
মঈন খান বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ দীর্ঘায়িত হলে দেশের মানুষ আবার জেগে উঠবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত পনেরো-ষোলো বছরে গণতন্ত্রকামী মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো যে আন্দোলন করেছে, তার প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে? তিনি বলেন, দীর্ঘ এক বছরে তেমন কোনো সাফল্য দেখা যায়নি। তবে অতীতে দেখা গেছে, মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। তাই আজকের পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে কেন এতদিনেও উত্তরণ সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, ‘নতুন বন্দোবস্ত যেন স্থায়ী না হয়ে যায়। সব পরিবর্তন পরিবর্তন নয়, বিভেদের কথা ভুলে গেলে আমরা পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তির শিকার হতে পারি।’
অন্যদিকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, অতীতে তিন মাসের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করলেও, এখন এক বছর পার হয়ে গেলেও দেশের মানুষ নির্বাচনে আস্থা রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে, আর দেশে বৈষম্য ও দারিদ্র্যের মাত্রা বেড়েছে, কর্মসংস্থানের অবস্থা সংকটাপন্ন।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি শহীদদের যথাযথ স্বীকৃতি না দেয়ার অভিযোগ এনে বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো হয়ে উঠছে; সবাই কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে শহীদদের কাউকে ধারণ করছে না।’ তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো শহীদদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ হয়নি যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতন দেশব্যাপী রাজনৈতিক দলগুলোকে সুসংগঠিত করেছিল উল্লেখ করে বলেন, ‘তবে আমরা সেই সময় ভুলে গেছি। এখন অনেকেই মাস্টারমাইন্ড হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, কিন্তু ইতিহাস থেকে শেখা দরকার যেন তারা ভবিষ্যতে ভিলেন না হয়ে যান।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, কিন্তু জুলাই পরবর্তী সময়ে তাদের অবদানের স্বীকৃতি মিলেনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য মীর মোফাজ্জল হোসেন, বহ্নিশিখা জামালী, একাত্তর টিভির হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ প্রমুখ।






