কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে না পারলে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী দল উল্লেখ করে দলটির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন বাজারের বালুর মাঠে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ফজলুর রহমান বলেন, ‘আরেকটা শয়তানের পার্টি আছে। এই পার্টির নাম স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামী। সেই জামায়াতে ইসলামী মিঠামইন থানায় ২৪ হাজার ভোট পেয়েছে। মিঠামইনে জামায়াত কোথা থেকে এলো? কে জামায়াতকে ভোট দিলো? কারা তাদের সঙ্গে মিলল? যে লোকটা নৌকা ছেড়ে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে পারে, তার তো জন্মেরই ঠিক নেই। তার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর সে ভোট দেয় দাঁড়িপাল্লায়?
গত নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মিঠামইন ইউনিয়নে তিনি মাত্র ৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পাশের গোপদিঘী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র ছাড়া প্রায় সব কেন্দ্রেই তিনি পিছিয়ে ছিলেন।
কামালপুর কেন্দ্রেও পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলেন, এই কেন্দ্র কার? এখানে কারা ভোট দেয়? আমাকে ভোট না দিলেও সমস্যা নেই, কিন্তু তাই বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন কেন? স্বাধীনতাবিরোধীরা গভীরভাবে ষড়যন্ত্র করে কাজ করে। বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।
জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি। কারণ মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার আসামিদের আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি অপেক্ষা করছি। তারা যদি হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারে, তাহলে আমি যেখানে যাওয়ার সেখানে যাব। বাংলাদেশে এমন কোনো উঁচু জায়গা নেই যেখানে আমার নাগাল নেই। জাহাঙ্গীর হত্যার প্রকৃত রহস্য আমি বের করবই। যদি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমি এমপিগিরি ছেড়ে দেব।
শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম আশফাক, ইটনা উপজেলা বিএনপির নেতা ঠাকুর প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।






