ঢাকার ধামরাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ সালিস-বৈঠকে নিষ্পত্তি করেছেন স্থানীয় মাতব্বররা। এ ঘটনায় জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের চর ডাউটিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে।
ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত হলেন স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদে সদস্য আতাহার আলী (৬৫)।
অন্য দিকে সালিস-বৈঠকের জরিমানার টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়া ব্যক্তি হলেন উপজেলা তরুণ দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। তিনি উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।
স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহস্পতিবার কালামপুর আমাতন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রতিবেশী আতাহার আলী ফাঁকা বাড়িতে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে সোমভাগ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা তরুণ দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীর মা শুক্রবার থানায় অভিযোগ করেন। এরপর মনিরুজ্জামান মনিরের মধ্যস্থতায় রবিবার সালিশ বৈঠক বসে। এতে অভিযুক্ত আতাহার আলীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ জরিমানার টাকা মনিরুজ্জামান মনির রেখে দেন। এর পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযুক্ত আতাহার আলী জানান, জরিমানার তিন লাখ টাকা মনিরুজ্জামান মনির ও স্থানীয় মাতাবর আব্দুল হালিমের কাছে দুই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মনিরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম নায়েবুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বাদীকে পাওয়া যায়নি। শুনেছি সালিস-বৈঠকে অভিযুক্তকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা স্থানীয়ভাবে আপসযোগ্য নয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বার্তা বাজার/এমএমএইচ





