ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

জুলাইযোদ্ধা আইনজীবীকে আ.লীগ নেতা বলে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৩ এএম

জুলাইযোদ্ধা আইনজীবীকে আ.লীগ নেতা বলে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই গভীর রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে এক আইনজীবীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যারিস্টার আহসান হাবিব আট দিন কারাবাসের পর জামিনে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে আওয়ামী লীগ নেতা সাজিয়ে ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ তিনি জুলাইযোদ্ধা। পুলিশের এই হয়রানির নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর শ্বশুর ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহ আতীকুর রহমান।

অবশ্য এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘একেবারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ। পারলে সে প্রমাণ দেখাক। আমার মেয়ে তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। অথচ সেই বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া পাঁচ মাস ঝুলে রয়েছে। আমার প্রভাব থাকলে তো অন্তত মেয়ের ডিভোর্সটা করাতে পারতাম।’

গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার হাবিব বলেন, ৪ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে গুলশান-২ নম্বরে আমার বাসার সামনে যায় সশস্ত্র পুলিশের একটি দল। তাদের কিছু সদস্য ছিলেন ইউনিফর্মে, বাকিরা সাদা পোশাকে। তারা নিজেদের পরিচয় দিলেও গ্রেপ্তারি বা তল্লাশি পরোয়ানা দেখাননি। এক কর্মকর্তা নিজেকে গুলশান থানার ‘ওসি তদন্ত’ পরিচয় দেন। কিছুক্ষণ পর ওসিও সাদা পোশাকে উপস্থিত হন। কী অভিযোগ নিয়ে এসেছেন জানতে চাইলে কেউ উত্তর দেননি। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য থেকে জানা যায়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার আহসানের মায়ের শয়নকক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালান। তিনি বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আহসান ও তাঁর মা শান্তিপূর্ণভাবে থানায় যাওয়ার সম্মতি দিলে তাদের লিফট থেকে টেনে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আহসানের মায়ের কবজিতে আঘাত লাগে। তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সে সময় আশপাশে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন না। প্রতিবাদের মুখে পরে দুই নারী কনস্টেবলকে ডাকা হয়।

ইবনে সিনা কর্মকর্তাকেও ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা
আহসানের ফোন পেয়ে তাঁর আত্মীয় ইবনে সিনা হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মর্তুজা মাসুদ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ তাঁকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। এর পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও তাঁকে সেখানে আটকে রাখে পুলিশ। পরে তিনি ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একইভাবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কর্মকর্তা মানবাধিকারকর্মী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে পরোয়ানা দেখতে চাইলে তাঁকেও ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়।

আহসান জানান, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি, যা সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। এ বিষয়ে আদালত গুলশান থানার ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। জবাবে ওসি জানান, তিনি ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে’ কাজ করেছেন।

নাশকতার ষড়যন্ত্রে যুক্ত : পুলিশ
গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ছিলেন। এখনও তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগসাজশে নাশকতার ষড়যন্ত্রে যুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। রাতে গ্রেপ্তার অভিযান প্রসঙ্গে ওসি বলেন, রাতে না গেলে এ ধরনের আসামি পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আহসানের বাসার দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছে– এমন অভিযোগ সঠিক নয়। উল্টো তিনি পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আহসান বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকলে পুলিশ প্রমাণ দেখাক। তারা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কিছু ছবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পোস্ট– এসব প্রমাণ হিসেবে দেখায়। কিন্তু আমার তো প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও ছবি আছে।

তদন্তের নির্দেশ আদালতের
আদালত অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে একজন উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেন। এদিকে মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান রায় দেন গ্রেপ্তার ও মামলা উভয়ই সংবিধানের পরিপন্থি। তবে জামিনের পরপরই পুলিশ তাঁকে বনানী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। ১৩ অক্টোবর আদালত আবেদনটি খারিজ করে জামিন বহাল রাখেন।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন