ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ভোট যুদ্ধ। একে অপরের প্রতি কাদা ছুঁড়াছুড়ির পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত সবল প্রার্থীদের আইনীভাবে বেকায়দায় ফেলতে দূর্বল প্রার্থীরা বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন কৌশল। এবার চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড ও আকবর শাহ-পাহাড়তলী (আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ‘ভোটার সম্মানী রশিদ’ নামক একটি কার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে ‘বার্তা বাজার’ এর সরেজমিন অনুসন্ধানে সাধারণ মানের কম্পিউটার প্রিন্টারের ছাপানো কার্ডটি ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার এবং আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ইমেজ নষ্ট করার জন্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কার্ডটিতে দেখা গেছে, সাহেদা বেগম নামে একজন মহিলার নাম রয়েছে। ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে জাহানাবাদ, ভাটিয়ারী। একটি ব্যক্তিগত ও বিকাশ এজেন্ট নাম্বার লিখা রয়েছে। নাম্বার দুইটির একটি করে দুইটি ডিজিট হালকা রঙে মুছে দেওয়া হয়েছে। কার্ডটি বার্তা বাজারের হাতে আসার পর থেকে ওই ঠিকানায় বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের সাথে কথা বলে সাহেদা বেগমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি বিকাশ নাম্বারটি অব্যবহৃত একটি নাম্বার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভাটিয়ারী এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছে আসলাম চৌধুরীর পক্ষ থেকে টাকা বিতরণের বিষয়টি জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে তারা ক্ষেপে উঠেন। তাদের দাবী, আসলাম চৌধুরী সীতাকুণ্ড তথা ভাটিয়ারী এলাকার একজন জনপ্রিয় নেতা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী এবং তিনি এসব মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ান। সুতরাং টাকা নয় অভিভাবক হিসেবে ভালোবাসার দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি আমাদের ভোটের দাবীদার।
আসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মুরসালিন ‘বার্তা বাজার’কে জানান, এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামকে অবগত করা হয়েছে। একই সাথে সীতাকুণ্ড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আইনে বলা আছে, ভোটের আগে বা নির্বাচনের সময় ভোটারদের অবৈধ অর্থ প্রদান প্রমানিত হলে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ধারা ১৭১ই অনুযায়ী, প্রার্থীর ১ বছর কারাদণ্ড, জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া ও নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অপরাধে প্রার্থীতা বাতিল বা অযোগ্য ঘোষণার বিধান রয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা ধানের শীষ প্রতিকের নির্বাচন কমিটির আহবায়ক সুজাউদ্দীন জানান, আসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা একের পর এক চক্রান্ত করে যাচ্ছে। কার্ড দিয়ে টাকা বিতরণের অপ্রচার ওইসব চক্রান্তের অংশ। যেখানে সাধারণ ভোটাররা আসলাম চৌধুরীর জন্য খেয়ে না খেয়ে দিনের পর দিন রাস্তায় আন্দোলন করতে পারে, সেখানে তাদের কাছে অর্থ বিতরণ একটি হাস্যকর অপবাদ।
প্রসঙ্গত, এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৪৪,৮৩৮০ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটার সংখ্যা ৫,১৩৯ জন। সাধারণ ভোটার সংখ্যা ৪,৪৩,২৪১ জন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির আসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিকীর মাঝে।
বার্তাবাজার/এমএইচ





