ঢাকা   রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

কক্সবাজার-৪ আসনটি টানা ১৩ বারের মতো ‘ক্ষমতাসীন’ দলের এমপির তকমা ধরে রাখল

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৫ এএম

কক্সবাজার-৪ আসনটি টানা ১৩ বারের মতো ‘ক্ষমতাসীন’ দলের এমপির তকমা ধরে রাখল

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনটির এক অনন্য ও অঘোষিত ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে– এখানে যিনি বিজয়ী হন, কেন্দ্রে সরকার গঠন করে তারই দল। স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটিতেই এই সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেই ধারার ব্যত্যয় ঘটেনি। মাত্র ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই শেষে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা শাহজাহান চৌধুরী। তার দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে আসনটি টানা ১৩ বারের মতো ‘ক্ষমতাসীন’ দলের এমপির তকমা ধরে রাখল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পোস্টাল ব্যালটসহ ১১৬টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির টানা ২২ বছরের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী।

বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছিলেন শাহজাহান চৌধুরী। তৎকালীন চট্টগ্রাম-১৮ আসন (উখিয়া-টেকনাফ-রামু) থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয় সংসদের সবচেয়ে নবীন হুইপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সেই থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত মোট ৯ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬ (ষষ্ঠ) এবং ২০০১ সালেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন এবং প্রতিবারই তার দল বিএনপি সরকার গঠন করেছিল।

ভূ-রাজনীতি ও রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে আলোচিত এই আসনে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় ছিল। ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শাহজাহান চৌধুরী নিজের জন্মস্থান উখিয়ায় ১ হাজার ৬৯২ ভোটে এবং টেকনাফে ১ হাজার ২৩৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

বিজয়ী হওয়ার পর শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জীবনের শেষদিন পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের সেবক হয়ে থাকতে চাই। নুর আহমদ আনোয়ারী সাহেবকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই।’ বর্তমানে তিনি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, নুর আহমদ আনোয়ারী নির্বাচনের পরদিন ফল পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে বিজয়ী হিসেবে শাহজাহান চৌধুরীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করায় ফল পরিবর্তন বা স্থগিত হওয়ার আর কোনো আইনি সম্ভাবনা নেই।

কক্সবাজার-৪ আসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখানকার সংসদ সদস্য সব সময় সরকারি দলেরই হয়ে থাকেন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী আব্দুল গণিও পরে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়ার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা শাহজাহান চৌধুরী এবারও দলের বিজয়ের সঙ্গে নিজের জয়কে যুক্ত করে সেই ১৩ বারের ঐতিহ্য ধরে রাখলেন।

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন