কক্সবাজারের টেকনাফে সামান্য এনজিও কর্মী থেকে কোটিপতি। প্রাসাদোপম বাড়ি, বাস, কার গাড়ি, অঢেল সম্পদসহ কি নেই তার? সম্প্রতি কক্সবাজার পাচার কালে বিজিবির চেক পোস্টে তার মালিকানাধিন বাস থেকে তার ইয়াবার চালান সহ চালক ও হেল্পার আটকের পর আলোচনায় আসে এই সাইলেন্ট ইয়াবা ডন ইমান হোসেনের নাম।
গত কাল সোমবার (২মার্চ) কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হোয়াইক্যং বিজিবির সড়ক তল্লাশী চৌকিতে যাত্রীবাহী (পালকি) বাসে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় চালক সাহাব উদ্দীন ও হেল্পার আব্দুস সালামকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ৬৪ বিজিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র।
তবে একটি সূত্রের দাবী, ওই চালানে মাদক ছিলো বিশ হাজার (দুই কার্ড)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
কে এই ইমান হোসাইন?
অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, শাহপরীরদ্বীপ বাজার পাড়ার নবী হোসেনের ছেলে ইমান হোসাইন। তার বাবা ছিলেন একজন জেলে। মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে স্থানীয় এক রাজনৈরিক নেতার সুপারিশে রোহিঙ্গা শিবির কেন্দ্রীক একটি বেসরকারী সংস্থায় সল্পবেতনের চাকুরী করতেন। চাকুরীরত অবস্থায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রীক মাদককারবারীদের সাথে গড়ে তুলেন সুসম্পর্ক। রোহিঙ্গাদের সাথে সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মাদক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের চালান খালাস করতেন শাহপরীর দ্বীপ থেকে। একপর্যায়ে বেশ কয়েক বছর পূর্বে চাকুরী ছেড়ে দেন। চাকুরী ছেড়ে দিয়ে বনেযান পুরোদস্তর মাদককারবারী। চলাফেরা দেখলে বুঝার উপায় নেই তিনি একজন সামান্য দিনমজুর জেলে পরিবারের সন্তান। তার চলাফেরায় ধনাঢ্যতার ছোয়া।
অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, মাদকের টাকায় শাহপরীরদ্বীপ থেকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে জমি কিনে গড়েছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। হাকিয়ে বেড়ান দামী বাইক। রয়েছে প্রাইভেট কার (চট্টমেট্রো ১১-২২৬১) ও মিনিবাস (কুমিল্লা-২১৪)। এসব পরিবহন চলাচল করে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে। অভিযোগ রয়েছে উভয় পরিবহনের জোগানে করে মাদকের চালান পাচার করে চালক ও হেল্পার।
তার একটি ঘনিষ্ট সূত্রের দাবী, চালক ও হেল্পার পাচারকালে মাদকসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলে মালিক ইমান হোসেনের জিম্মায় তাদের জামিন করানোর মৌখিক চুক্তি রয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে কোন ভাবেই মালিক ইমান হোসেনের নাম প্রকাশ করা যাবে না।
সূত্রটি আরো জানায়, গাড়ি দুইটি ব্যবহার করে নিজের মাদকের পাশাপাশি শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিন পাড়ার একটি সিন্ডিকেটের মাদকের চালান পাচার করে থাকে।
একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবী, সম্প্রতি ইমান হোসেনের টেকনাফ কেন্দ্রীক একটি মাঝারী মাপের মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে তার মালিকানাধীন মিনিবাসের জোগানে করে মাদকের চালান কক্সবাজার পাচার করছেন।
এইসব বিষয়ে জানতে ইমান হোসেনের মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বার্তা বাজার/এস এইচ





