চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নগরীর খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, সোমবার ভোর ৬টা থেকে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনির পরিচালিত অভিযানে সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি এলজি রয়েছে। এছাড়া ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, ১৮টি হেক্সোব্লেড এবং হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে আটক করা হয়েছে সন্দেহভাজন ২২ জনকে।
অভিযানে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসীদের স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়। এসব স্থাপনার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন যাবত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ও নিরাপদ আবাসস্থল। যেখানে অপরাধী ধরতে গিয়ে সর্বশেষ র্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার মত ঘটনা ঘটে। তখন প্রশাসন থেকে বড় কোন অভিযানের কথা থাকলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপর নতুন সরকার গঠনের পর জঙ্গল সলিমপুরে চালানো হয় ব্যাপক অভিযান। যেখানে মোট ৩ হাজার ১৭৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন।
এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫০০ জন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রায় ১৫০ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রায় ৮০০ জন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের প্রায় ৪০০ জন, পার্বত্য জেলা থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৫০ জন এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) প্রায় ৪০০ জন সদস্য ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার), সিএমপি ও র্যাবের তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
বার্তা বাজার/এস এইচ





